সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্য ব্যাখ্যা করলেন তাজুল ইসলাম

বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এক টিভি টকশোতে সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ বা কাঠামো এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে প্রচারিত এই আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধানের এমন কিছু মৌলিক কাঠামো রয়েছে যা সংসদ চাইলেও সংশোধন করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে এই কাঠামো সুরক্ষিত রাখা হয়। তবে তিনি জানান, এই কাঠামো সংস্কার করা সম্ভব।

তাজুল ইসলাম সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কেবল সংসদীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে তা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে সংশোধনীটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করেছিল। তার মতে, কেবল সংশোধনের পথে হাঁটলে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়; এটি কেবল কিছু বাহ্যিক বা কসমেটিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে, যা জাতির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান দেবে না।

সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা হিসেবে রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন। গত ৫৪ বছরের রাষ্ট্রীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তিনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি প্রস্তাব করেছিলেন যে, সংস্কারের জন্য একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ গঠন করা যেতে পারে, যেখানে সদস্যরা একই সাথে সংসদ সদস্য এবং গণপরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তাজুল ইসলাম বর্তমান সরকারের বৈধতা প্রসঙ্গে বলেন, যেহেতু সরকার একটি রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে যা প্রচলিত সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে ছিল না, তাই সংস্কারের জন্য আলাদা আদেশের প্রয়োজন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ইতোমধ্যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, যা এই প্রক্রিয়ার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি করেছে। জনগণ সচেতনভাবেই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং সবাই তা মেনে নিতে বাধ্য।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন কেবল সাধারণ নির্বাচনের জন্য হয়নি, বরং রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের জন্যই হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে কেবল সংশোধন প্রক্রিয়ার দিকে যেতে চাইছে এবং সংস্কার পরিষদ নামটির বিষয়ে তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত