জাপান ও ভারতের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ওয়াইড বলের সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত ভিত্তিহীন। নিয়ম অনুযায়ী আম্পায়ার তার আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক আম্পায়ারদের অভিমত হলো, শেষ পর্যন্ত মাঠে সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত ছিল, তবুও ক্রিকেটীয় আইন অনুযায়ী এটি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।
ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলানোর বিষয়টি নিয়ে ভারত দলকে ‘পেশিশক্তি প্রয়োগকারী’ বা বুলিংয়ের মতো তকমা দেওয়া হয়েছিল। অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, আম্পায়ার কি চাপের মুখে পড়ে সিদ্ধান্ত বদলেছেন নাকি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তার আগের কলটি ভুল ছিল? বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তবে ব্যাটার রিভার্স সুইপ খেলার কারণে লেগ-স্টাম্প ওয়াইডের সাধারণ নিয়মটি এখানে কার্যকর ছিল না। ফলে আম্পায়ারদের সঠিক আইনটি প্রয়োগ করার সুযোগ ছিল।
এ বিষয়ে আইসিসির সাবেক আন্তর্জাতিক প্যানেলের আম্পায়ার অনিল চৌধুরী বলেন, “আম্পায়ারের কাছে ওপিনিয়ন কল দেওয়ার সুযোগ থাকে। যখন কোনো ব্যাটার রিভার্স সুইপ বা সুইচ হিট খেলার চেষ্টা করেন, তখন দুই পাশই অফসাইড হিসেবে গণ্য হয়।” ম্যাচে ওয়াইড কলটি দিয়েছিলেন জাপানের আম্পায়ার ক্রিস থারগেট। অনিল চৌধুরী আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এটি কোনো ওয়াইড ছিল না এবং আইসিসির অন্য আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের সাথে আলোচনার পর তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি সংশোধন করেছেন, যা আইপিএল বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন নয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শেষ ওভারের তৃতীয় বলে। ব্যাটার আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর রিভার্স সুইপ খেলার চেষ্টা করেন। আইসিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যাটার রিভার্স সুইপ বা সুইচ হিটের জন্য পজিশন নেন, তবে ওয়াইডের ক্ষেত্রে লেগ-সাইড এবং অফ-সাইড উভয় দিকেই সমান নিয়ম প্রযোজ্য হয়। এর মানে হলো, ব্যাটার ওই শট খেলার ভঙ্গি করলেই তিনি বলটিকে নিজের আয়ত্তের মধ্যে নিয়ে এসেছেন বলে ধরা হয়, যা লেগ-স্টাম্প ওয়াইডের গতানুগতিক ব্যাখ্যাকে নাকচ করে দেয়।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৪১তম অবস্থানে থাকা জাপানের বিপক্ষে ভারত সামান্যর জন্য হার এড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটি দুই রানে জিতে নেয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একদল সমর্থক অভিযোগ তোলেন যে, ভারত মাঠের আম্পায়ারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। একটি ভাইরাল পোস্টে এই ঘটনাকে ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত মোড় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
তবে অনিল চৌধুরী মনে করেন, চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেওয়া আর আইন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত সংশোধন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আম্পায়ার ক্রিস থারগেট অভিজ্ঞ আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করেছিলেন। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, যতক্ষণ না পরের বলটি গড়ানো শুরু হয় বা আম্পায়ার সময় শেষ (টাইম কল) ঘোষণা করেন, ততক্ষণ আম্পায়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। যেহেতু ম্যাচটি তখনও চলমান ছিল এবং পরের বলের জন্য রান-আপও শুরু হয়নি, তাই আম্পায়ারদের এই সিদ্ধান্ত বদলানোর প্রক্রিয়াটি ছিল আইসিসির আইনের পূর্ণ অনুসারী।

