সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর ফ্লোরিডায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। উভয় দলই তাদের সেমিফাইনাল হারকে নিজেদের ভুলে ভরা বলে মনে করছে এবং এখনো সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।
টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কৌশলগত মাস্টারক্লাসের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড আটলান্টায় আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ আরও বাড়িয়েছে। এই ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বে খুব একটা গুরুত্ব পায় না, তবুও দুই দলকে তাদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি সঞ্চয় করে মাঠে নামতে হচ্ছে।
ইংল্যান্ড দলের কোচ টমাস টুখেল ম্যাচটির প্রতি তার অনীহার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ জিততে এসেছিল এবং ফাইনালে খেলতে চেয়েছিল, এই ম্যাচটি কেউ খেলতে চায় না। তবে ফ্রান্সের চেয়ে একদিন কম বিশ্রামের সুযোগ পেলেও তারা পেশাদারিত্বের সাথেই ম্যাচটি খেলবেন। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমও একই সুর গেয়েছেন; তিনি মনে করেন, এমন ম্যাচ না হওয়াই ভালো ছিল।
৫৭ বছর বয়সী দেশমের জন্য এটিই লেস ব্লুজদের কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচ। ১৪ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও দিয়েছেন দলকে। তবে শেষ বিদায় বেলায় তিনি আবেগপ্রবণ হতে চান না বলে জানিয়েছেন।
ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে ৮ গোল নিয়ে লিওনেল মেসির সাথে সমানে সমান অবস্থানে আছেন। যদিও তিনি দলের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার দায়ভার নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ২০টি বিশ্বকাপ গোল রয়েছে, যা মেসির রেকর্ডের চেয়ে মাত্র একটি কম। এছাড়াও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন ৬টি করে গোল এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে ৫টি গোল নিয়ে লড়াইয়ে রয়েছেন।
ম্যাচের জন্য সম্ভাব্য দলগুলো হলো: ফ্রান্স থেকে ব্রিস সাম্বা, মালো গুস্তো, ইব্রাহিমা কোনাতে, ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া, থিও হার্নান্দেজ, এনগোলো কান্তে, ওয়ারেন জায়ার-এমেরি, ডেজিরা ডউ, রায়ান চেরকি, উসমান দেম্বেলে ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের দলে রয়েছেন জর্ডান পিকফোর্ড, জড স্পেন্স, জন স্টোনস, মার্ক গুয়েহি, নিকো ও'রিলি, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ডেক্লান রাইস, মরগান রজার্স, জুড বেলিংহাম, অ্যান্থনি গর্ডন ও হ্যারি কেইন।

