জাপানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। তবে এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিরোধিতা ও মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালে ফুডিসাওয়া শহরে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ এখন একটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে ফুডিসাওয়ায় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হলে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। প্রকল্পটির বিরুদ্ধে একটি অনলাইন আবেদনে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে প্রায় ১০ লাখ ইয়েন বা ৬ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়। প্রকল্পটি আইনি সব শর্ত পূরণ করার পরেও স্থানীয় নগর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে।
জাপানে ১৯৩৫ সালে প্রথম ‘কোবে মসজিদ’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটিতে আনুমানিক ১৬৭টি মসজিদ রয়েছে। ফুডিসাওয়ার বর্তমান প্রকল্পটি একটি শান্ত গ্রামীণ এলাকায় প্রস্তাবিত ছিল। আয়োজকরা সব আইন মেনে জমি কিনলেও, রাজনীতিবিদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীরা অভিবাসীবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়িয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা মসজিদটিকে অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে চিত্রিত করার পাশাপাশি সেখানে কবরস্থান তৈরি করা হবে বলে গুজব ছড়িয়েছেন। অথচ পাশের এবিনা সিটির মসজিদটি স্থানীয়দের জন্য কোনো সমস্যার সৃষ্টি করেনি।
জাপানের ৯৯.৯ শতাংশ লাশ দাহ করা হয়, ফলে মুসলিমদের দাফনের জন্য সরকারি কবরস্থানে কোনো জায়গা নেই। ১৯৬৭ সাল থেকে মুসলিমরা ব্যক্তিগত কবরস্থান তৈরির চেষ্টা করলেও স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পড়ছেন। এই সংকট মেটাতে মুসলিমরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের নিজস্ব কবরস্থানের জায়গা ভাগাভাগি বা ক্রয়ের চেষ্টা করছেন। বর্তমানে জাপানে প্রায় ১০টির মতো মুসলিম কবরস্থান থাকলেও তোহোকু, কিউশু বা ওকিনাওয়ার মতো অঞ্চলে কোনো সক্রিয় কবরস্থান নেই।
২০১৮ সালে ওনিতা প্রদেশের বেপ্পু মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগটি জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। হিজির মেয়র তেতসুয়া আবের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণাতেও এটি প্রধান ইস্যু ছিল। এমনকি ২০২৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সানসেইতো-র মতো ডানপন্থি দলগুলো এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
ঋতসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শিনজি কোজিমা এবং গবেষক আতসুশি ইয়ামাগাতার মতে, কেন্দ্রীয় সরকার দেশটিকে ‘অভিবাসী দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এই সমস্যা বাড়ছে। অভিবাসন সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যারা পর্যাপ্ত সম্পদ ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। যদিও একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, তবে ভিসা ও নাগরিকত্বের নিয়ম কঠোর করায় দীর্ঘমেয়াদী সংহতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

