যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপা জিতল স্পেন। গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। মাঠের এই লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারের পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল প্রযুক্তি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই একটি সুপারকম্পিউটার যে পূর্বাভাস দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা-ই বাস্তবে রূপ নিল।
ইংল্যান্ডের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই পূর্বাভাস মডেলটি তৈরি করেছিলেন। তারা এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের শক্তিমত্তা, খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করে মডেলটিতে এক হাজার বার সিমুলেশন চালিয়েছিলেন। সেই বিশ্লেষণের ফলাফল অনুযায়ী, স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ছিল ২৬ দশমিক ১ শতাংশ, যা ছিল সব দলের চেয়ে বেশি। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইংল্যান্ড (১৭ শতাংশ), এরপর ছিল ফ্রান্স (১৩ দশমিক ৫ শতাংশ), আর্জেন্টিনা (১২ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং পর্তুগাল (১০ দশমিক ৬ শতাংশ)। বিস্ময়কর বিষয় হলো, সুপারকম্পিউটারের এই তালিকার শীর্ষ চার দলই সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।
গবেষকদের মতে, মডেলটিতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা, চোট, নিষেধাজ্ঞা, আবহাওয়া এবং মাঠের সামগ্রিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। এর আগে ইউরো ২০২৪ টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড রানার্সআপ হবে বলেও সঠিক পূর্বাভাস দিয়েছিল এই মডেলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও স্পেনকে ফেভারিট হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তাদের নেটএসআই স্পোর্ট গবেষণা দলের পরিচালক ব্রেনান ক্লেইন বলেন, কৌশলগত দক্ষতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিচারে স্পেনই ছিল টুর্নামেন্টের সেরা দল। স্পেনের এই সাফল্যের পেছনে তাদের খেলার ধরনের বড় পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ‘তিকিতাকা’ ঘরানার ফুটবল থেকে বেরিয়ে এসে দলটি এখন অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে, যা তাদের শিরোপা জয়ে সহায়তা করেছে।

