কলকাতায় তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চ ভাঙচুর, রাতভর শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থলে

কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) শহীদ দিবসের মঞ্চে গভীর রাতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ নেতারা রাতভর ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যেই মঞ্চটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং দলীয় সূত্রে জানানো হয় যে, নির্ধারিত সময়েই শহীদ দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছর ২১ জুলাই কলকাতায় শহীদ দিবস পালন করে। ১৯৯৩ সালের এই দিনে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিবসটি পালিত হয়। এবার দলটির তিনটি পৃথক গোষ্ঠী শহরে আলাদা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, রাতের দিকে শহীদ দিবসের মঞ্চে ভাঙচুরের ঘটনায় মঞ্চের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যানার, পোস্টার ও হোর্ডিং ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ ও মাইক্রোফোনের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।

এই ভাঙচুরের খবর পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনসহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন এবং সারারাত সেখানেই অবস্থান করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘আমাদের সমর্থকদের সভায় আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরও পুলিশ হুমকি দিচ্ছে। আমরা শহীদদের স্মরণ করছি, আর আমাদের মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ৬০ জন বিজেপি-সমর্থিত দুর্বৃত্ত এই হামলায় জড়িত। তার অভিযোগ, শুরু থেকেই পুলিশ ও বিজেপি মিলে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান বানচালের ষড়যন্ত্র করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় কর্মসূচির স্থান পরিদর্শনে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, তৃণমূলকে সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, কলকাতায় সমাবেশে যোগ দিতে আসা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের থাকার ব্যবস্থাও করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর শহীদ দিবসের কর্মসূচি নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তারা এতে ভীত নন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, রাতের মধ্যেই মঞ্চ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মহুয়া মৈত্র দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কোনো উদ্বেগ ছাড়াই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি লেখেন, ‘শহীদ দিবসে ১৯৯৩ সালে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা জোগায়। তাদের উত্তরাধিকার চিরকাল আমাদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।’