নিট প্রশ্নফাঁস: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে, দাবি সিজেপি প্রধানের

ভারতের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ও সরকারের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও উভয় পক্ষই আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, তবে কে আগে উদ্যোগ নেবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন অচলাবস্থা। আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আলোচনার মূল উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসতে নারাজ।

ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দুই মাস আগে যাত্রা শুরু করা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার যদি সত্যিই আলোচনা করতে চায়, তবে তাদেরই আমাদের কাছে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের শর্ত মেনেই আলোচনা হতে হবে। সরকারের অহংকারের অবসান ঘটিয়ে তাদের আলোচনায় সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, সরকারি সূত্রগুলো দাবি করছে যে, আন্দোলনকারীরা আলোচনায় বসতে রাজি হলে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বা যন্তর মন্তরে হতে পারে, কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এদিন দুপুরে সরকার ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ৩২তম দিনে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে অভিজিৎ দিপকে সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, একদিকে সরকার আলোচনার ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। দিপকে আরও অভিযোগ করেন, সরকার আমাদের সময় নষ্ট করেছে। আমাদের প্রতিনিধিদলকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল এবং আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিজেপির জেপি নাড্ডার বাসভবনে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্যমতে, সরকারের আসল উদ্দেশ্য ছিল সিজেপিকে ছত্রভঙ্গ করা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে সোমবার সিজেপির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা বৈঠক করেছিলেন এবং দাবিগুলো সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছিলেন। একই দিন হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের বাধা দেয়। এই সহিংসতার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।