শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ভয় জয়ের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পুলিশের সামনে দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না, বরং এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৬ জুলাই ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জ্ঞাপন করেন এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ৬ জন প্রাণ হারান। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার সেই দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল, যা পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।

তারেক রহমান আরও বলেন, জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, গুম, খুন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। তিনি শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও ভয়ভীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। সেই আত্মত্যাগের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ পুনরায় তাদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। ঐতিহাসিক এই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর সরকার শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বিশ্বাস করেন, শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না এবং তাদের আত্মত্যাগই ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী সব নাগরিকের জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের সংকল্প ব্যক্ত করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত