শাহজালাল বিমানবন্দরে এআই প্রযুক্তিতে অপরাধী শনাক্তের বিশেষ নজরদারি

গুরুতর অপরাধ করে বিদেশ পালিয়ে যাওয়া কিংবা বিদেশ থেকে অপরাধ করে দেশে ফেরার পথ বন্ধ করতে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধীর কেবল একটি ছবি থাকলেই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো অপরাধী বিমানবন্দরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই এআই ক্যামেরা তাকে শনাক্ত করে সংকেত পাঠাবে, যার ফলে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা সহজ হবে। এছাড়া অবৈধ মালামাল ও সোনা চোরাচালান রোধেও এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অদৃশ্য জাল বিস্তার করা হয়েছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই ডিজিটাল নজরদারি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ সিস্টেম এবং উচ্চ সংবেদনশীল গোল্ড ডিটেকশন প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে।

এই ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমটি বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার টার্মিনাল, বোর্ডিং ব্রিজ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং কার্গো ভিলেজের মতো স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে বসানো হয়েছে। হাই-টেক এআই ক্যামেরার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির মুখমণ্ডল ম্যাচ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে অটোমেটেড অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। কেবল অপরাধী শনাক্তই নয়, এই সিস্টেম বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণ কিংবা পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা প্রদান করে।

অন্যদিকে, সোনা চোরাচালান রোধে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক গোল্ড ডিটেকটিভ মেশিন। চোরাচালানকারীরা বর্তমানে সোনা তরল, পেস্ট বা শরীরের বিশেষ অংশে লুকিয়ে পাচারের নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করলেও এই মেশিন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে জামাকাপড় বা শরীরের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধাতব বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই চোরাচালান প্রতিরোধে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।