জুলাই চেতনা বিক্রি করে রাতারাতি বদলে গেছেন অনেকে: আক্তারুজ্জামান

অনেকেই জুলাই চেতনা বিক্রি করে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। আক্তারুজ্জামান দাবি করেন, যারা জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছেন, তাদের অনেকেই একসময় রিকশায় চলাফেরা করতেন, অথচ এখন তারা বিলাসবহুল প্রাডো গাড়িতে চড়েন।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা জুলাই যুদ্ধ করেছি এবং আমি নিজেও এতে সক্রিয় ছিলাম। আমাদের দলের অনেক নেতা ও তাদের সন্তানেরা এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কিছু মানুষ এখন জুলাই চেতনা বিক্রি করছেন। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেন যে, জুলাই চেতনা বিক্রির কোনো বিষয় নয় বরং এটি হৃদয়ে ধারণ করার মতো একটি বিষয়। তিনি মনে করেন, জুলাই তো আর কোনো পণ্য নয় যে তা বিক্রি করা যাবে।

নিজের ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার উদাহরণ টেনে আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি যে গাড়িটি ব্যবহার করতেন, এখনো সেই একই গাড়িতে চড়েন। গাড়ির অবস্থা এখন খুবই নাজুক, তবুও তিনি সেটিই ব্যবহার করছেন। এরপরই তিনি জুলাই চেতনা বিক্রেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এই শ্রেণির মানুষেরা আগে কোন বাসায় থাকতেন আর এখন কোথায় থাকেন, তাদের জীবনযাত্রার এই আকাশ-পাতাল পরিবর্তন যদি সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ করা হতো, তবে দেশবাসী তাদের আসল রূপ স্পষ্টভাবে দেখতে পেত।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে আক্তারুজ্জামান জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি দ্রব্যের ওপর দাম কমানো হয়েছে। বাজেটে কেবল দুটি জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, যার একটি হলো সিগারেট এবং অন্যটি মদ। বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা এই বাজেটকে চানাচুর মার্কা বাজেট বলে অভিহিত করছেন। তিনি মন্তব্য করেন, চানাচুর বাচ্চারা খায়, আবার বড়রাও খায়। বড়রা অন্য কিছু খাওয়ার পরে চানাচুর খান কি না তা নিয়ে তার জানা নেই, তবে বাজেটের সমালোচনা করতে গিয়ে এমন মন্তব্য তাদের মন খারাপের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও চিকিৎসাসহ সামগ্রিক সামাজিক সুরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা হয়তো সিঙ্গাপুর বা কানাডা নই, তবে এই দেশটিকে আমরা সেই আদলেই উন্নত করতে চাই। এই বাজেটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কর ছাড়ের সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীরা যেন বাংলাদেশে বেশি বেশি বিনিয়োগ করেন, বাজেটে সেই পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সঠিক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের একমাত্র প্রতীক হলেন তারেক রহমান। মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা যেমন মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেছি, ঠিক একইভাবে জুলাইকেও আমাদের অস্তিত্বে ধারণ করি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান যখন মুক্তিযুদ্ধের পর দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি দেশপ্রেম, সততা ও আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাই আমরা স্বাধীনতাকে জুলাই দিয়ে মুছে দিতে চাই না; আমরা আমাদের স্বাধীনতা এবং জুলাই বিপ্লব—উভয়কেই সমান গুরুত্ব ও সম্মানের সাথে আমাদের অন্তরে ধারণ করি।