চীনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জোটে যুক্ত হওয়ার পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। সাংহাইভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা ডব্লিউএআইসিও-এর পর্যবেক্ষক হওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল দুপুরে এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়।
এআই কূটনীতিতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সমান্তরাল আগ্রহের বিষয়টি এখন বেশ স্পষ্ট। ঠিক যে সময়ে বেইজিংয়ের এআই জোটে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা এল, ঠিক সেই দিনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আইটি খাতে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। জবাবে সার্জিও গর জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এছাড়া আগামী সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
চীনের নেতৃত্বাধীন ডব্লিউএআইসিও প্রতিষ্ঠিত হয় চলতি বছরের ১৬ জুলাই। আন্তর্জাতিক এআই সহযোগিতা জোরদার, বৈশ্বিক ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য উন্মুক্ত, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই সংস্থাটির লক্ষ্য। পাশাপাশি মানবকল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এআই-সংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সংস্থাটি কাজ করবে। বর্তমানে বিশ্বের ২৯টি দেশ এই আন্তঃসরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
গত মাসে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন এবং বৈশ্বিক এআই সুশাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তত ১০০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি অংশ নেন। সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের এক বৈঠকেই ২৯টি দেশকে নিয়ে ডব্লিউএআইসিও গঠনের ঘোষণা দেয় চীন। প্রাথমিক সদস্যদের তালিকায় চীনের পাশাপাশি রাশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সেনেগালসহ গ্লোবাল সাউথের বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে।

