মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: সাগরে ফিরছে প্রাণ
মৎস্য সম্পদ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সামুদ্রিক এলাকায় বিপন্ন মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মৎস্য আহরণে আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত মধ্যরাতে উঠে গেছে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে আমাদের সামুদ্রিক এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারের বিচরণসহ মৎস্য আহরণে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছিল। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সাতক্ষীরা থেকে দক্ষিণের কুয়াকাটা হয়ে পূর্ব-দক্ষিণের টেকনাফ পর্যন্ত ৭১০ কিলোমিটার উপকূলীয় তটরেখা এবং সমুদ্র অভ্যন্তরের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত ‘একান্ত অর্থনৈতিক এলাকা’র ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৬০ বর্গ কিলোমিটারে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল।
জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা বহাল
তবে ইলিশের বংশ বিস্তারসহ নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠায় সহায়তার লক্ষ্যে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী জাটকা আহরণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি অভয়াশ্রমে ২-৩ মাসের নিষেধাজ্ঞাও গত ৩১ মে শেষ হয়ে গেছে।
জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা
সাগরে মাছ ধরার ৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে মৎস্য আহরণে নির্ভরশীল উপকূলের ১৪টি জেলার ৬৯টি উপজেলার ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে, অর্থাৎ ৫৮ দিনের জন্য ৭৭.৩৩ কেজি করে চাল বিতরণ করেছে সরকার। এই কর্মসূচীর আওতায় শুধু বরিশাল বিভাগের ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৯ জেলে পরিবারের মাঝে ১১ হাজার ২৯২ টন চাল বিতরণ করা হয়। এ সময়ে সরকার উপকূলের জেলে পরিবারগুলোকে সর্বমোট ২৪ হাজার ১৬৬ টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করেছে বলে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।
কঠোর নজরদারি ও অভিযান
সমুদ্র এলাকায় ৫৮ দিন মৎস্য আহরণে এই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী ও কোস্ট গার্ড ছাড়াও নৌ এবং জেলা পুলিশ সতর্ক নজরদারি করেছে। এ লক্ষ্যে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম থেকেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ মৎস্য অধিদপ্তর।
ফলে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে উপকূলীয় এলাকায় ৬০টির মতো মোবাইল কোর্ট ছাড়াও সাড়ে ৩ হাজার অভিযান পরিচালনা করে মৎস্য অধিদপ্তর। এ সময়ে প্রায় আড়াই হাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও ৯ হাজারেরও বেশি মাছঘাট ছাড়াও প্রায় ১৮ হাজার আড়ত এবং ১৭ হাজার বাজার পরিদর্শন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ মৎস্য অধিদপ্তর। এসব অভিযানে প্রায় ১২শ টন অবৈধ সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও প্রায় ১১ লাখ মিটার অবৈধ জাল এবং শতাধিক বিভিন্ন ধরনের মৎস্য আহরণ নৌযানও জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৫০টির মতো মামলা দায়েরসহ প্রায় ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ছাড়াও প্রায় ৩০ জেলে ও মৎস্যজীবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশও দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি আহরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বিভিন্ন মৎস্য আহরণ সরঞ্জামাদি নিলামে বিক্রি করে সরকারের ২.২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, আমাদের সমুদ্র এলাকায় ছোট-বড় নানা প্রকারের ৪৭৫ প্রজাতির মৎস্য সম্পদ অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সমুদ্র এলাকায় ৩৬ প্রজাতির চিংড়ি, ৫ প্রজাতির লবস্টার, ১৫ প্রজাতির কাঁকড়া, ৫ প্রজাতির কচ্ছপ ও ১৩ প্রজাতির প্রবালসহ বিভিন্ন জলজ সম্পদ আমাদের সমুদ্র সম্পদকে সমৃদ্ধ করেছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, দেশের মৎস্য সম্পদে সামুদ্রিক মাছের অবদান বর্তমানে প্রায় ১৩ ভাগ। সমুদ্র এলাকায় প্রায় ৫.১৬ লাখ জেলে আড়াই শতাধিক বাণিজ্যিক ট্রলার ছাড়াও প্রায় ৩৩ হাজার ইঞ্জিন চালিত ও ৩৫ হাজার ইঞ্জিনবিহীন নৌকায় নানা সরঞ্জামের সাহায্যে মৎস্য আহরণ করে থাকেন। অধিদপ্তরের মতে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে দেশে উৎপাদিত প্রায় ৫০.১৮ লাখ টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে এককভাবে সামুদ্রিক মাছের পরিমাণ ছিল ৬.৩০ লাখ টনের মতো। সাগরে আহরিত মাছের ৪৫ ভাগ ইলিশ, ৪৯ ভাগ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ এবং চিংড়ির পরিমাণ ৬ ভাগ।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও মৎস্য প্রাপ্যতা
তবে ২০১৫ সাল থেকে বঙ্গোপসাগরে আমাদের একান্ত অর্থনৈতিক এলাকায় মৎস্য আহরণে বিভিন্ন মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা শুরুর পরে মাছের প্রাপ্যতা ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের প্রায় ৬ লাখ টন থেকে ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রম হ্রাসমান। মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দেশের সামুদ্রিক জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা ৬.৭০ লাখ টনে হ্রাস পেয়ে পরবর্তী অর্থ বছরে তা ৬ লাখ ২৮ হাজার ৬২৩ টনে নেমে এসেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দু বছরের ব্যবধানে সাগর এলাকায় মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পেয়েছে প্রায় সাড়ে ৭৭ হাজার টন। সাগরে মাছের আহরণজনিত উৎপাদন হ্রাসের হার ১০ ভাগের বেশি। এমনকি সাগরে ইলিশের উৎপাদনও ২০২১-২২ সালে ৩,২১,৮৭১ টন থেকে ’২৩-২৪ অর্থ বছরে ২,৮০,৯১৮ টনে হ্রাস পেয়েছে। যা দু বছর আগের তুলনায় প্রায় ৪১ হাজার টন কম এবং আগের দুটি বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ ভাগ কম বলে জানা গেছে।
তবে বঙ্গোপসাগরে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ইলিশের প্রাপ্যতা প্রায় ২.৫২ লাখ টন থেকে ২৩-২৪ অর্থবছরে ২.৮১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। অনুরূপভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপকালীন সময়ে সাগরে সব মাছের আহরণও ৫.৯৯ লাখ টন থেকে ২১-২২ অর্থবছরে ৭.০৬ লাখ টন পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। যা সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ৬.৩০ লাখ টনে স্থির রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞা নীতির বিবর্তন ও কার্যকারিতা
তবে সরকার চিংড়ির প্রজনন প্রক্রিয়া নিরাপদ ও নিশ্চিত করা সহ অন্যান্য মাছের বিচরণ, প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আহরণ প্রবৃদ্ধি টেকসই করতেই ২০১৫ সালে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ট্রলারের ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬৫ দিন মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সাল থেকে সব ধরনের নৌযানের ক্ষেত্রেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। আর সামুদ্রিক জলাশয়ে ৬৫ দিনের এই আহরণ নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক বছরে আমাদের মৎস্য সম্পদে প্রায় ১ লাখ টনেরও বেশি মাছ যোগ হয়েছে বলে মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে।
তবে পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সমন্বয়সহ জেলে ও মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতামতের ভিত্তিতেই গত বছর থেকে সাগরে আহরণ নিষেধাজ্ঞা ৬৫ দিন থেকে ৫৮ দিনে হ্রাসসহ তা মে মাসের পরিবর্তে এপ্রিলের মধ্যভাগ থেকে জুনের প্রথমভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ৬৫ দিনের বন্ধ মৌসুম কার্যকরের আগে অর্থাৎ ২০১২-১৩ থেকে ’১৪-১৫ সময়ের তুলনায় ২০১৫-১৬ থেকে ’১৭-১৮ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ট্রলার থেকে আহরিত মাছের ক্যাচলগ পর্যালোচনায় মৎস্য আহরণের পরিমাণ বৃদ্ধির সুস্পষ্ট প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দেশে উৎপাদিত ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টন মাছের মধ্যে সামুদ্রিক জলাশয়ে উৎপাদন ছিল প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার টন। যা ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৬.৮০ লাখ টনের ওপরে এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭.০৬ লাখ টনে বৃদ্ধি পায়।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বঙ্গোপসাগরই বিশ্বের একমাত্র উপসাগর যেখানে সবচেয়ে বেশি নদী বিধৌত পানি প্রবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বিশ্বব্যাপী ‘সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্য সম্পদ অতি আহরণ, ভূমি ও সমুদ্র হতে সৃষ্ট দূষণ এবং জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনসহ নানামুখী সংকটের সম্মুখীন’। ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মৎস্যকুলের প্রাচুর্য, বিস্তৃতি ও প্রজাতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়নে সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞার বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন মৎস্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্বের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ অসীম হলেও অফুরন্ত নয়। তাই সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য সকল ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তাকে বিবেচনায় রেখে বিগত বছরগুলোতে আহরণ বৃদ্ধি পেলেও প্রজাতির গুণগতমান অবনমন লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে মৎস্য সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন স্তরের অংশীজনের মাছের সীমিত সম্পদ নিয়ে অসম প্রতিযোগিতা এবং আয় বৈষম্যও বেড়েছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীরা ‘বিশাল এলাকার জলরাশির মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং সুষ্ঠু ও বিজ্ঞানসম্মত সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করে বছরের পর বছর সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদন অব্যাহত এবং বংশ বৃদ্ধি সহ মজুদ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব’ দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীরা ‘আমাদের একান্ত বাস্তবতা ও পরিবেশকে বিবেচনায় নিয়ে সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন’রও তাগিদ দিয়েছেন।
জেলেদের অসন্তোষ ও প্রতিবেশী দেশের সাথে সমন্বয়
তবে অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় এলাকার মতো সাগরে ১৫ এপ্রিল থেকে ১২ জুন পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধের বিষয়টি নিয়েও অসন্তুষ্ট কতিপয় জেলে ও মৎস্যজীবী। অথচ এই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়কালের অধিকাংশই ঝড়-ঝঞ্ঝাসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অতিবাহিত হয়ে থাকে। এমনকি ইতোপূর্বে উপকূলের বিশাল জেলে ও মৎস্যজীবীদের অভিযোগ ছিল, ‘বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও এ সময়ে ভারতে নিষিদ্ধ না থাকায় সে দেশের জেলেরা অবাধে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে মাছ লুটে নেয়’। তবে এক্ষেত্রে মৎস্য বিজ্ঞানীদের সুপারিশের আলোকেই ‘প্রতিবেশী দেশের সাথে সমতা রেখে সাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময় গত বছর থেকে এগিয়ে আনার পাশাপাশি ৬৫ দিনের স্থলে ৫৮ দিনে হ্রাস করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৫ এপ্রিল থেকে ৪৫ দিন মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে মিয়ানমার সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় সে দেশের জেলেদের আগ্রাসন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা থাকছে বরাবরই।
বিপন্ন প্রজাতি ও সংরক্ষণের আহ্বান
মৎস্য বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে বঙ্গোপসাগরে আমাদের একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে মলাস্ক বা শামুক ও ঝিনুকের প্রজাতির সংখ্যা ৩০১টি, অস্থিময় মাছ ৪৭৫টি, হাঙ্গর ও স্কেটসহ তরুণাস্থিময় মাছের প্রজাতি ৫১টি, চিংড়ি ৩৬টি, লবস্টার ৮টি, কাঁকড়া ১৫টি, ডলফিন বা তিমি ১১টি, সামুদ্রিক কচ্ছপ ৫টি, সাপ ৯৮টি, সেফালোপেড ৭টি, স্টার ফিস ৩টি, ওয়েস্টার ৬টি, সজারু ১টি, সাগর শশা ১টি এবং ১৬৮ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির প্রবাল ও ৩ প্রজাতির স্পঞ্জ রয়েছে। কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে অনিয়ন্ত্রিত ও অতি আহরণের ফলে সাগরে ফল্লি, চান্দা, সার্ডিন বা চাপিলা, বস্তার পোয়া নিঃশেষ হবার পথে। লাক্ষা মাছও অতিরিক্ত আহরণে প্রায় নিঃশেষ। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, এ অবস্থায় যেকোনো মাছ বাণিজ্যিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাবার প্রবল ঝুঁকির মুখে কার্যকর সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এসব প্রজাতির মাছ সম্পূর্ণ বিলুপ্তির আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে রূপচাঁদা, কলম্বো, মরিচ এবং সাদা পোয়া মাছ এখনো সহনীয় আহরণে তার অস্তিত্ব ধরে রেখেছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, বঙ্গোপসাগরে আমাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে আহরণে নিয়োজিত নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি রহিতসহ তা কমিয়ে আনা জরুরি। তবে এ আলোকেই ইতোমধ্যে সাগরে মাছ ধরার আর কোনো ট্রলারের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না বলে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রয়োগ এবং তার সুফল ধরে রাখতে বেশ কিছু বছর ধরে নির্দিষ্ট সময়ে আহরণ নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা সহ সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভেদী ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করারও তাগিদ দিয়েছেন মৎস্য বিজ্ঞানীরা। আর এ লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপটি হবে কঠোর, ফলে সুফলও হবে দীর্ঘ মেয়াদী।

