রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এবারও সেরা বগুড়া

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫—উভয় সূচকেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বগুড়া জেলা। তবে গতবারের তুলনায় এ বছর জেলাটিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের হার—দুই-ই কমেছে। এ বছর রাজশাহী বোর্ডে মোট ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৪৭৮ জনই বগুড়া জেলার। এটি বোর্ডের মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর প্রায় ২৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজশাহী জেলা (২ হাজার ৯৪৯ জন) এবং তৃতীয় অবস্থানে পাবনা (১ হাজার ৯৭০ জন)। গত বছর বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২২ হাজার ৩২৭ জন, যার মধ্যে বগুড়ার ছিল ৫ হাজার ৯০০ জন। সেবার দ্বিতীয় স্থানে রাজশাহী (৩ হাজার ৬৩৯ জন) এবং তৃতীয় স্থানে সিরাজগঞ্জ (৩ হাজার ১০৪ জন) ছিল।

শুধু জিপিএ-৫ নয়, পাসের হারেও রাজশাহী বিভাগে সবার ওপরে রয়েছে বগুড়া। বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬৩ দশমিক ওয়ান শতাংশ বা ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ হলেও বগুড়ায় এই হার ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জয়পুরহাটে ৬৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬৫ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে বগুড়া জেলা থেকে ৩২ হাজার ১৯২ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৩ হাজার ৩৪৯ জন।

জেলা পর্যায়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি বগুড়ার বেশ কয়েকটি নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরাবরের মতোই ভালো ফল করেছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই জেলার সেরা হয়েছে বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৩৬ জন পরীক্ষা দিয়ে সবাই পাস করেছে, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪৩ জন (৭৮.৩৭ শতাংশ)। গত বছর ৪৭৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছিল এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৯৯ জন (৮৪.৩৫ শতাংশ)। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে এই সাফল্য বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তাঁর দাবি, এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কোনো স্কুল থেকে এত বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

তবে গত বছরের তুলনায় বগুড়া জিলা স্কুল ও বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ফলাফলে কিছুটা অবনতি হয়েছে। জিলা স্কুল থেকে এবার ২২৪ জন অংশ নিয়ে ২২৩ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৫ জন। গত বছর ২২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল এবং পাসের হার ছিল শতভাগ। সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার ২১৮ জন অংশ নিয়ে ২১৬ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৪ জন। গত বছর ২৫০ জনের মধ্যে ২৫০ জনই পাস করেছিল এবং ২৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। সেবারও পাসের হার ছিল শতভাগ।

অন্যদিকে, ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আর্মড পুলিশ পাবলিক স্কুল ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫৭ জন অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৬ জন (প্রায় ৮৬ শতাংশ)। বগুড়া Cantonment পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৪১৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৪ জন। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৪৭ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪৫ জন। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন পাস করেছিল এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪৯ জন। এছাড়া এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজ থেকে ৬১ জন অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮ জন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফ্ফাত জেরীন জানান, পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই বগুড়া জেলা শীর্ষে রয়েছে। তবে বোর্ডের দুই হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি বগুড়ার কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।