বগুড়ায় শাহে আলমে তোলপাড়: পরিবারের নামে ইউনিয়ন, নাম বদলের নির্দেশ

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। বগুড়া জেলায় তার পরিবারের পদবি, দুই পুত্র ও এক কন্যার নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ নামকরণের অভিযোগ উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ এবং মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে এই চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জনসেবার আদর্শ নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯৮৭ সালে তিস্তা, পদ্মা ও যমুনার তীব্র ভাঙনে চাঁদপুর সদর, বগুড়ার সারিয়াকান্দি এবং রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে তিস্তার রেলব্রিজ এলাকায় প্রতিদিন শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছিল। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী অর্থসংকটের মধ্যেও রংপুরের কাউনিয়ার রেলব্রিজ রক্ষায় কিছু অর্থ বরাদ্দ দেন। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়, কারণ তিনি চাঁদপুরের এমপি হয়েও নিজের এলাকার পদ্মার ভাঙন রোধে বরাদ্দ না দিয়ে রংপুরে বরাদ্দ দিয়েছিলেন। চাঁদপুরের দুই এমপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। জবাবে মিজান চৌধুরী বলেন, ‘মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আমি সারাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমার নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর সদর পদ্মায় ভাঙ্গছে; এমপি হিসেবে ভাঙ্গনরোধে বরাদ্দ দিলে ভাল হতো। কিন্তু তিস্তার ভাঙ্গন এতো প্রবল যে যেকোনো সময় যোগাযোগের একমাত্র পথ রেলব্রিজ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সীমিত অর্থের সবটুকু সেখানে বরাদ্দ দিতে হয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার মনে হয়েছে সঠিক কাজ করেছি’।

এরও আগে, ১০৮৬ সালে তিস্তা নদীর ভাঙনে পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের বাঁধের অর্ধেক ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সরে যায়, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে বাঁধের অবশিষ্ট অংশে আশ্রয় নেয়। তৎকালীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী শফিকুল গণি স্বপন (মশিউর রহমান যাদু মিয়ার পুত্র) সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান। তখন রংপুর-৪ আসনের এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের শাহ আবদুর রাজ্জাক। মন্ত্রী স্বপন বিশাল লটবহর নিয়ে ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে নৌকায় চড়ে পানিবন্দী মানুষ ও বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষের কথা শোনেন। দুর্গত মানুষের আর্তি ‘স্যার আমাদের বাঁচান’ শুনে মন্ত্রী সাফ জবাব দেন, ‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে এমপি করেছেন; এখন জাতীয় পার্টির সরকারের কাছে সাহায্য চাচ্ছেন কেন?’ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা সদরে খানাপিনা ও বিশ্রাম করে তিনি রংপুর শহরে যান। মন্ত্রী সার্কিট হাউজে পৌঁছাতেই বিটিভিতে রাত ৮টার খবরে জানানো হয় যে, ‘মন্ত্রী পরিষদ থেকে একজনকে বাদ দেয়া হয়েছে’। উৎসুক মন্ত্রী ঢাকায় ফোন করে জানতে পারেন, শফিকুল গণি স্বপনকেই মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই খবর শুনে হতোদ্যম স্বপন রাতেই রংপুর সার্কিট হাউজের অদূরে তার পৈতৃক বাড়িতে চলে যান। এই ঘটনাগুলো জনপ্রতিনিধিদের জনসেবার মানসিকতা ও দৃঢ়তার গুরুত্ব তুলে ধরে, যেখানে জনসেবায় দলীয় পরিচয় বা নির্বাচনী এলাকা বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়।

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের বিতর্ক ও প্রভাব

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীরা পর্যন্ত ব্যক্তিস্বার্থ ও আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের চার মাসের শাসনামলে যে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এবং ক্ষমতাধর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, তাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অন্যতম। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারাও তার নাম না শুনলেও, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তার নাম আলোচনায় আসে। সরকারের ভেতরে তার প্রভাব এতটাই যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক সমাবেশে তাকে বর্তমান সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেছিলেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী করা হলেও ঋণ খেলাপির কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। পরবর্তীতে এই আসনে নির্বাচন করে এমপি হন মীর শাহে আলম। তার নির্দেশনায় গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’ এবং মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নাম অনুসারে ‘মীরবাড়ি ইউনিয়ন’, তার দুই ছেলে মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্তের নাম অনুসারে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন এবং ভাইয়ের মেয়ের নাম অনুসারে ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়ন।

আইন লঙ্ঘন ও গণশুনানি বিতর্ক

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রতিমন্ত্রীর এই ধরনের নামকরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এ ধরনের নামকরণ অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ও দৃষ্টিকটু। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর উপধারা অনুযায়ী, ইউনিয়নের নামকরণ কোনো ব্যক্তির নামে করা যাবে না’। সংসদে এই বিতর্ক উঠলে জামায়াতের এক নেতার প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়ে বলেন, ‘অলৌকিকভাবে এই নামগুলো তার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে। আমার যদি খারাপ উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে তিনি নামের আগে ‘মীর’ যুক্ত করতে বলতেন। কিন্তু নামের আগে তো মীর নেই’। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন যে গণশুনানির মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নামকরণ হয়েছে, কিন্তু স্থানীয়রা এমন কোনো গণশুনানির কথা শোনেননি বলে জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার অনুযায়ী নামকরণ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসক বলেন, উপজেলা থেকে যেভাবে প্রস্তাব এসেছে সেভাবেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মী গ্রেফতার ও সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক পদবি, দুই পুত্র ও এক ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নিয়ে যখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছিল, তখন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে নেটিজেনরা নানান মন্তব্য ও বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এই খবর প্রকাশ করার জেরে বগুড়া থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিমন্ত্রী নিজে মামলা দায়ের না করে স্থানীয় আরেক পত্রিকার সম্পাদককে দিয়ে মামলা করিয়েছেন। ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সম্পাদক পরিষদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তারা অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির এমন প্রবণতা দেখা গেছে উল্লেখ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ে রেজানুর ইসলামের মুক্তি প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও চলমান বিতর্ক

এই বিতর্কের মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ১৯ জুন বিএনপির মিডিয়া সেলকে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিয়ে আবার গণশুনানি করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, এই বিতর্ক এখনো থামেনি, বরং এর ডালপালা চতুর্দিকে ছড়াচ্ছে।

অন্যান্য মন্ত্রীদের বিতর্কিত মন্তব্য

বর্তমান সরকারের আরও দুজন মন্ত্রী বিতর্কিত মন্তব্য করে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রথমে ‘পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি অন্যায় কিছু নয়’ মন্তব্য করেন এবং পরে বলেন, ‘পদ্মা ব্রিজের নিচ থেকে বালু উত্তোলন করলে পদ্মা সেতুর ক্ষতি হবে না’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ লাভবান হবে’। মন্ত্রী-এমপিদের পুত্র-ভাই-চাচা-ভাতিজাদের ক্রিকেট বোর্ডের পদ দখল এবং প্রতিমন্ত্রীর পুত্র-ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ নির্বাচিত সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সমালোচনা

সরকার নতুন স্বপ্নের সন্ধান দিতে বিপুল অর্থের বাজেট ঘোষণা করলেও, চার মাসেও অর্থনীতিতে তেমন গতি আনতে পারেনি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালু, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অতিরিক্ত বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ, নতুন সিটি কর্পোরেশন, নতুন উপজেলা পরিষদ ইত্যাদি প্রশাসনিক শাখা বৃদ্ধি সরকারের খরচ আরও বাড়াবে। প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের পদবি, দুই পুত্র ও ভাতিজির নামে ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণ শুধু প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহারের বার্তাই নয়, এটি সরকারের খরচও বাড়াবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ভারত ‘রাম রাজ্য’ কায়েম করছে আর এখানে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ‘নাম রাজ্য’ কায়েম করছে। উনি ছেলের নামে, ভাইয়ের নামে, মেয়ের নামে, ভাতিজির নামে, বংশের নামে ইউনিয়নগুলোর নাম দিচ্ছেন এবং সেখানে বরাদ্দ নিয়ে এসেছে সবচেয়ে বেশি। তারেক রহমানের বন্ধু ভাগ্য খুব খারাপ। এর আগে একজন ছিল গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। আর এখন হচ্ছেন মীর শাহে আলম। এই বন্ধুর কারণে নাকি বড় বড় মন্ত্রী তার সামনে কথা বলে না। এই সরকারের সব থেকে পাওয়ারফুল মন্ত্রী কক্সবাজারে বলেছেন উনি সবচেয়ে পাওয়ারফুল প্রতিমন্ত্রী। বুঝতে পারছেন উনার জোরটা কত বড়। আর তার হাতেই আপনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যিনি সিনিয়র মন্ত্রী, তিনি কাজ ছাড়া বসে থাকেন, তার সিদ্ধান্তগুলো উনি উল্টে নেন প্রতিমন্ত্রী। এই মীর শাহে আলমরা মীর তন্ত্র কায়েম করছে বগুড়ায়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে ৬ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বাজেটের (১১ হাজার কোটি টাকা এবং তার আগের বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা) তুলনায় ১৭ গুণ বেশি। এই থোক বরাদ্দের স্বচ্ছতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, প্রতিমন্ত্রী নিজের বাড়ির সামনে বড় বড় রাস্তা নির্মাণ করছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার গোপালগঞ্জের নাম বদলের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, উনি (শাহে আলম) পারলে শিবগঞ্জের নাম বদলে দিবেন।