সীমান্তে ৪৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পর ১১ জনকে ফেরত নিলো বিএসএফ

বিএসএফ-এর পুশব্যাকের চেষ্টা প্রতিহত, ১১ জনকে ফেরত

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া ১১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর অবশেষে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই পুশব্যাকের চেষ্টা প্রতিহত করে।

আটকে পড়া ১১ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ৪ জন শিশু ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে আটকে থাকায় তারা খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছিলেন। বিশেষ করে শিশু রোজিনার দুর্দশা স্থানীয়দের মধ্যে মানবিক উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্নার খবর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিজিবি-র তৎপরতায় প্রতিহত পুশব্যাক

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দেখতে পায় যে ভারতের বহরগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের দিক থেকে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্তের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করেন।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে আটকে রাখে। তারা কয়েক দিন ধরে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

ব্যক্তিদের ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানান যে তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে আরও কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তাদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

এই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং টহল জোরদার করা হয়।

সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, “সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে পুশব্যাকের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”

এদিকে, ৮ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে সীমান্তে আটকে থাকা নারী ও শিশুদের মানবিক দুর্ভোগের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে শিশু রোজিনার খাদ্যসংকট ও কান্নার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অবশেষে, পরিস্থিতি নিয়ে চাপ বাড়লে বিএসএফ ওই ১১ জনকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।