জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ে আনচেলত্তির কৌশলগত পরিবর্তনের ভূমিকা

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে হাজিমে মরিয়াসুর শিষ্যরা প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে কোণঠাসা করে রেখেছিল এবং বিরতির সময় পর্যন্ত এগিয়ে ছিল জাপানই। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সাহসী ও কার্যকর কৌশলগত পরিবর্তনেই ম্যাচের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়।

প্রথমার্ধে ব্রাজিল মূলত জাপানের কৌশলগত ফাঁদে পড়েছিল। হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগের দুই ম্যাচে আনচেলত্তির মূল পরিকল্পনা ছিল মাঝমাঠ দিয়ে ভার্টিক্যাল ফুটবল খেলে হাফ-স্পেসে উইঙ্গারদের গতির ব্যবহার করা। কিন্তু জাপান ৫-৪-১ ও ৫-৩-২ ফরমেশনের সংমিশ্রণে অত্যন্ত কম্প্যাক্ট রক্ষণভাগ সাজিয়ে ব্রাজিলের মাঝমাঠের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ করে দেয়। এর ফলে দুই ফুলব্যাক দানিলো ও ডগলাস সান্তোসের ওপর উইং দিয়ে আক্রমণ তৈরির বাড়তি দায়িত্ব চাপে। তবে এটি তাদের জন্য সহজ ছিল না, কারণ দুজনেই শক্তিশালী পা দিয়ে বল ভেতরের দিকে কাট করতে পছন্দ করতেন। জাপানের শক্তপোক্ত মিড ব্লকের কারণে উইং থেকে কার্যকর কোনো ক্রস তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না।

কুলিং ব্রেকের পর জাপান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা ৩-৪-৩ ফরমেশনে ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক, ফুলব্যাক ও হোল্ডিং মিডফিল্ডারদের ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, যার ফলে বিল্ড-আপ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এই চাপের সুবাদেই জাপান গোলের দেখা পায়। দানিলোর একটি ভুল পাস ও কাসেমিরোর রক্ষণাত্মক পজিশনিংয়ের সুযোগ নিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জাপানকে এগিয়ে দেন।

বিরতির সময় আনচেলত্তি তার কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। লুকাস পাকেতা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে আনচেলত্তি সেই সুযোগ কাজে লাগান। পাকেতার পরিবর্তে এন্দ্রিককে মাঠে নামিয়ে তাকে প্রথাগত সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ভূমিকা দেওয়া হয় এবং মাথেউস কুনিয়াকে নামিয়ে আনা হয় মিডফিল্ডে। একই কৌশল তিনি গ্রুপ পর্বে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচেও সফলভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানান, এটি ছিল তার সুপরিকল্পিত পরিবর্তন। বিরতিতে তিনি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরে নিজেদের কাঠামো বজায় রাখতে বলেছিলেন এবং বিশ্বাস ছিল শৃঙ্খলা বজায় রাখলে গোল আসবেই। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল অনেক বেশি জায়গা তৈরি করতে সমর্থ হয় এবং ক্রস দিতে শুরু করে। সেই ক্রস থেকেই আসে প্রথম গোলটি। ওয়াইড এরিয়া ব্যবহারের কারণে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণেও সুবিধা তৈরি হয়, যার ধারাবাহিকতায় ব্রাজিলের জয়সূচক গোলটিও আসে।