বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ জুলাই) বেলা ২টার দিকে নগরের সদর রোডের টপ টেন নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
ঘটনাটি গত ২৭ জুন সন্ধ্যার। নগরের সদর রোডে অগ্রণী হাউজিংয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেন যে, মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ আরও কয়েকজন তার কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর করেন। এসময় তারা ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর আদায় করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার গত বৃহস্পতিবার আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। এরপর গত শনিবার রাতে তিনি তার কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পরপরই আব্দুল আজিজ সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন, যার ফলে ওই চেকের মাধ্যমে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেছেন, ঘটনার দিন কার্যালয়ে উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরিচালকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এদিকে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, লিটু যুবদলের কোনো কমিটির সদস্য নন এবং দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা নেই।

