কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ নায়ক কেভিন পিনা

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ অভিযান: চমক জাগানো পারফরম্যান্স

ফিফা বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের প্রথম অভিযান প্রতিদিনই নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। গ্রুপ এইচ-এর উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেওয়ার পর, গত সোমবার দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষেও ২-২ গোলের ড্র করে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে আফ্রিকার এই দ্বীপরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ছিল এক স্মরণীয় দৃশ্য, যেখানে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে আত্মবিশ্বাস ও দারুণ ফুটবল খেলে উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে সমানতালে মোকাবিলা করেছে।

ইতিহাস গড়া গোলদাতা কেভিন পিনা

উরুগুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচে রাতারাতি নায়ক হয়ে ওঠেন কেভিন পিনা। তিনি উরুগুয়ের জালে বল জড়িয়ে কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নেন। ম্যাচের ২১তম মিনিটে পিনা একটি দূরপাল্লার ফ্রি-কিক থেকে এই ঐতিহাসিক গোলটি করেন। উরুগুয়ের দুর্বলভাবে সাজানো ডিফেন্সিভ ওয়াল এবং গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরাকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। কেপ ভার্দে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিয়ামি স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। পিনার মুখে আনন্দের হাসি, সতীর্থদের উচ্ছ্বাস এবং গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের আবেগঘন উদযাপন ছিল দেখার মতো। মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজারেরও কম জনসংখ্যার এই দেশটি এখন বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ ওঠার স্বপ্ন দেখছে।

কেভিন পিনার ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

কেভিন পিনা বর্তমানে রাশিয়ার ক্লাব এফসি ক্রাসনোদারের হয়ে খেলেন। গত মৌসুমে রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে তিনি ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ১১টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। তার দল মৌসুম শেষ করে রানার্স-আপ হিসেবে। কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়ায় জন্ম নেওয়া পিনা পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব অলিভেইরেন্সের হয়ে তার পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০১৮ সালে বেনফিকা বি-এর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচে তার অভিষেক হয়। পরবর্তীতে তিনি ক্রাসনোদারের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন এবং পরে সেই চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ান। ২০২১ সালের শেষ দিকে ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। ২০২২ সালের শুরুতে লিশটেনস্টাইনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তার অভিষেক হয়, যেখানে কেপ ভার্দে ৬-০ গোলের বড় জয় পেয়েছিল।

উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের বিস্তারিত

ম্যাচের ২১তম মিনিটে পিনার ঐতিহাসিক ফ্রি-কিক গোলে কেপ ভার্দে এগিয়ে গেলেও, প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই উরুগুয়ে ম্যাচে ফিরে আসে। ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো এবং আগুস্তিন কানোব্বিওর গোলে তারা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ৪০ বছর বয়সী উরুগুয়ান গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে হেলিও ভারেলা কেপ ভার্দের হয়ে সমতাসূচক গোল করেন। এরপর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি, ফলে ম্যাচটি ২-২ ড্রয়ে শেষ হয়।

শেষ ৩২-এর স্বপ্ন এবং পরবর্তী ম্যাচ

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী শনিবার কেপ ভার্দে মুখোমুখি হবে সৌদি আরবের। এর আগে সৌদি আরব স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। কেপ ভার্দে জানে, এই ম্যাচে জয় পেলেই তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেবে। বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক হয়ে ওঠা কেপ ভার্দে এখন ইতিহাসের আরও একটি অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় আছে।