প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর: উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশায় লাখো মানুষ

চা-বাগানের সবুজ সমারোহ, পাহাড়-টিলা এবং হাওরবেষ্টিত ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে বর্তমানে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার সর্বত্র আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর জাতীয় পর্যায়ের একজন শীর্ষ নেতার এমন গুরুত্বপূর্ণ সফরকে ঘিরে জেলার মানুষ উন্নয়নের নতুন প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন।

আগামী বুধবার (১৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী জেলার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তাঁর এই সফর উপলক্ষে উভয় ভেন্যুতেই মঞ্চ, প্যান্ডেল নির্মাণ, অতিথি আপ্যায়ন এবং নিরাপত্তাসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর এই সফর সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন। এই কর্মসূচির আওতায় রাজনগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোট ৩০৮ জন উপকারভোগীর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কার কার্যক্রম ইতিপূর্বেই সম্পূর্ণ হয়েছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে তৈরি হয়েছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে; অনেকেই প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে জেলার শেরপুরে আয়োজিত জনসভায় তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে তিনি আবারও মৌলভীবাজারে ফিরে আসবেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, তাঁর এবারের সফর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

উন্নয়নের প্রত্যাশা ও দীর্ঘদিনের দাবি

আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার মানুষের মনে দীর্ঘদিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন দাবি রয়েছে। দেশের অন্যতম রেমিট্যান্স ও রাজস্বসমৃদ্ধ জেলা হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছেন সচেতন নাগরিকরা।

  • সড়ক ও রেল যোগাযোগের আধুনিকায়ন
  • শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু
  • একটি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
  • যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণ
  • পর্যটন শিল্পের টেকসই বিকাশ
  • হাওর-নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ

এই দাবিগুলো জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জেলার সর্বত্র গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা আশা করছেন, জেলার দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসবে এবং মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষিত হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য

এদিকে, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল আগমনকে ঘিরে গোটা জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, আবেগ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা শ্রীমঙ্গলের জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি মুহূর্ত।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সার্বিক সমন্বয়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে, যাতে সফরটি সুষ্ঠু, সফল ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল ইউনিট সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুরো সফর এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবং শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী আগমনের দিনটি ঘিরে মৌলভীবাজারে তৈরি হয়েছে এক অনন্য প্রত্যাশার আবহ। জেলার লাখো মানুষের চোখ এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে। উন্নয়নের নতুন বার্তা, নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় পুরো চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল।