বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তারকা খেলোয়াড়রা
বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বর্তমানে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি। তার সাথে এই দৌড়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড এবং হ্যারি কেইন। এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং গোল করে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন।
হ্যারি কেইনের জোড়া গোল ও রেকর্ড
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়েছেন। ২০১৮ সালের গোল্ডেন বুট জয়ী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা ১০-এ নিয়ে গেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে গ্যারি লিনেকারের পাশে নিজের নাম লেখান। ৩১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার আবারও প্রমাণ করেছেন যে বড় মঞ্চে তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
মেসির হ্যাটট্রিক ও নতুন রেকর্ড
আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। তিনি বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখান। ৩৯তম জন্মদিনের এক সপ্তাহ আগে, মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড গড়েন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।
আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত সূচনা
২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের হয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছেন আর্লিং হালান্ড। ইরাকের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই তিনি দুটি গোল করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। ম্যানচেস্টার সিটির এই খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ৫৭তম গোল করে জানিয়ে দিয়েছেন যে নরওয়ে এবার শুধু অংশগ্রহণ করতেই আসেনি, শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুত।
কিলিয়ান এমবাপ্পের দাপট
গ্রুপ ‘আই’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফ্রান্সকে জয় এনে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই খেলোয়াড় প্রথম ম্যাচেই তার পরিচিত ধার দেখিয়েছেন। দুরন্ত গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভেঙে দিয়ে দলের জয়ে তিনি বড় ভূমিকা রাখেন।
গোল্ডেন বুটের নিয়মাবলী
কাগজে-কলমে বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি, যার ঝুলিতে রয়েছে তিনটি গোল। তার পরেই এই তালিকায় রয়েছেন ফোলারিন বালোগান, কাই হাভার্টজ, ইয়াসিন আয়রি, হ্যারি কেইন, এলিজাহ জাস্ট, আর্লিং হালান্ড এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে, যারা প্রত্যেকে দুটি করে গোল করেছেন।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে অ্যাডিডাস গোল্ডেন বুট প্রদান করা হয়। যদি একাধিক খেলোয়াড় সমান সংখ্যক গোল করেন, তবে প্রথমে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। এরপরও সমতা থাকলে, টুর্নামেন্টে যে খেলোয়াড় কম সময় মাঠে ছিলেন, সেই হিসাবেই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হয়।
