চাঁদপুরে সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার দোয়াভাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত একটি ভাড়া বাসা থেকে নাজমুন নাহার স্বপ্না (৩৩) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সোমবার সকালে নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলার ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তার শিশু সন্তানরা বাসায় উপস্থিত ছিল। পুলিশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্নার বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর ইউনিয়নের বাংলাইস গ্রামে। তিনি নজরুল ইসলাম ও ফিরোজা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। স্বপ্নার মৃত্যুর বিষয়টি তার বড় ভাই মোতালেব হোসেন নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিক সূত্র ও স্বজনদের তথ্যমতে, স্বপ্না অতীতে তিনটি বিয়ে করেছিলেন। তার প্রথম স্বামী ওমর ফারুকের সঙ্গে সংসার জীবনে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরবর্তীতে সেই বিয়ে বিচ্ছেদ হলে তিনি শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেরকী গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনকে বিয়ে করেন। সেই সম্পর্কও ভেঙে যাওয়ার পর তিনি একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বপ্না জীবদ্দশায় খিলা বাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতেন।

স্থানীয়রা জানান, গত চার দিন আগে তিনি নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে তার শিশু সন্তানদের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। তারা বাসার ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশকে খবর দেন। বাসার মালিকপক্ষের সদস্য মেহেদী হাসান জানান, চার দিন আগে রাসেল চৌধুরী রাজু নামে এক প্রবাসী নিজেকে স্বামী পরিচয় দিয়ে স্বপ্নাকে বাসাটি ভাড়া করে দেন।

খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শমশেদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।