প্যারিসে রহস্যজনক মৃত্যু এপস্টেইনের মডেল সরবরাহকারী ড্যানিয়েল সিয়াদের

প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের জন্য নারী সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদ প্যারিসের কাছে নিজ বাড়িতে রহস্যজনকভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন বলে ফরাসি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ৬৯ বছর বয়সী সিয়াদ বর্তমানে ফ্রান্সে মানব পাচার-সংক্রান্ত বিশেষ প্রসিকিউটরদের তদন্তের আওতায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ ছিল। এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এপস্টাইন ফাইলের ১,০০০-এর বেশি নথিতে তার নাম উল্লেখ রয়েছে।

সিয়াদ এপস্টাইনকে নারী ট্রাফিকিং ও নির্যাতনে সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন ফরাসি পুরুষের মধ্যে অন্যতম। তিনি এখনও তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হননি, তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছিলেন যে তিনি তার নিজস্ব সংস্করণ তুলে ধরতে চান। গত সোমবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত করা হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে মডেল খুঁজতেন সিয়াদ। পূর্ব ইউরোপের গ্রাম থেকে শুরু করে কিউবা ও সুইডেন পর্যন্ত তিনি নারীদের সন্ধান করতেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করার জন্য উপযুক্ত নারীদেরও তিনি খুঁজে দিতেন। ২০১৪ সালে এপস্টেইনকে লেখা এক ইমেইলে তিনি তার কাজকে মাছ ধরার সঙ্গে তুলনা করে লিখেছিলেন, ‘এই ব্যস্ততায় আমি মাঝে মাঝে মাছ ধরার মতো অনুভব করি, কখনো দ্রুত ধরা পড়ে, কখনো কোনো মাছ নেই।’

এপস্টাইন ফাইলগুলোতে সিয়াদকে তার সবচেয়ে অনুগত সহযোগীদের একজন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এপস্টেইনের মৃত্যুর কয়েক মাস আগ পর্যন্ত তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সিয়াদ ভ্রমণ-সংক্রান্ত খরচ বাবদ অর্থও পেয়েছিলেন। তিনি মডেলিং দুনিয়ায় ভালো সংযোগ রাখতেন এবং জাঁ-লুক ব্রুনেলের জন্যও কমিশনভিত্তিক স্কাউট হিসেবে কাজ করতেন। ব্রুনেল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে আত্মহত্যা করেন এবং এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান।

ফেব্রুয়ারিতে গার্ডিয়ানকে দেওয়া ইমেইল বিবৃতিতে সিয়াদ দাবি করেছিলেন যে, তিনি এপস্টেইনের জন্য প্যারিসে বৈধ মডেল কাস্টিং সেশনের জন্য নারীদের পাঠাতেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘তার একটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট ছিল যেখানে তিনি সব মিটিং আয়োজন করতেন, যার মধ্যে আমি যাদের নিয়োগ করেছি তাদের কাস্টিংও ছিল। কাস্টিংয়ের সময় ১০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হতো না। আমি সবসময় মডেলদের সঙ্গে সঙ্গে স্থান ত্যাগ করতাম।’

এ বছরের শুরুতে সাবেক সুইডিশ মডেল এবা কার্লসন সিয়াদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে স্টকহোমে সিয়াদ তাকে স্কাউট করেছিলেন এবং পরে ফ্রান্সে ধর্ষণ করেন। কার্লসন প্যারিসে ধর্ষণ ও মানব পাচারের অভিযোগ দায়ের করেন। সিয়াদের মৃত্যুর খবরে এবা কার্লসন বলেন, ‘এটি খুবই হতাশাজনক। তিনি গ্রেপ্তারের খুব কাছাকাছি ছিলেন। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য এত কষ্ট করেছিলাম।’

সিয়াদ ফ্রান্স টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এপস্টেইন তার বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন এবং তিনি জানতেন না যে এই ব্যক্তি বিপজ্জনক। তিনি আরও বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে একজন আবিষ্কার করে যে এই ব্যক্তি নৃশংসতা করেছে; সৌভাগ্যবশত, আমি তাকে কোনো নাবালক বা প্রাপ্তবয়স্কের সাথে পরিচয় করাইনি যাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার নিজেকে দোষারোপ করার কিছু নেই।’ ডিওজে ফাইল অনুসারে, ২০১৬ সালে এফবিআই সিয়াদের কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি প্রসিকিউটররা এপস্টাইন ফাইল বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট দল গঠন করেন।