দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাস্তায় বুধবার গভীর রাতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কর্মকর্তারা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেন এবং লাঠিপেটা করেন। মে মাসে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জের ধরে সদ্য গঠিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। সিজেপি নেতাদের ঘোষণা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ হাজারের বেশি মানুষ জড়ো হয়েছেন। বুধবার সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দিতে শিক্ষার্থীরা সেখানে ভিড় করতে শুরু করেন। সন্ধ্যার পর ভিড় আরও বাড়তে থাকলে তা আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লি পুলিশের বরাতে এএনআই জানিয়েছে, গভীর রাতে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও প্লাস্টিকের বোতল ছুড়লে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে, যদিও রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এসব ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য এটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার খাতিরে দিল্লি মেট্রোরেল কর্পোরেশন বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের ১৬টি স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়, তবে পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, ২৫ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলেও তাঁরা পিছু হটবেন না। এদিকে মোদি সরকার সিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, অতীতেও সরকার শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিবাদকে গুরুত্ব দেয়নি। রাহুল গান্ধী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। বৃহস্পতিবার সংসদে বিরোধীরা তাদের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।