রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর (২৬) মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের এই প্রশিক্ষিত ডুবুরি গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা তল্লাশির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিতাইগঞ্জের কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সাদিক ছিলেন মেজো। পেশাগত জীবনে তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার মূল দায়িত্ব। তার দক্ষতা ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ফায়ার সার্ভিস পদক অর্জন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন।
সাদিকের চাচা ও সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক জানান, ঘটনার দিন সাদিক ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। এ সময় ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। তার সাথে আরও ৩ জন সদস্য ছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা ফায়ার সার্ভিস প্রধান কার্যালয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ বাড়িতে আনা হলে সন্ধ্যার পর স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তিনি এই অকাল মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্য আছে কি না, তা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সাদিকের মা তার ছেলের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, তিন দিন আগে তার সাথে কথা হয়েছিল এবং সামনের সপ্তাহে বাড়ি আসার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে সাদিক তার বাবার কাছে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। মা দাবি করেছেন, তার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যেন সরকার খতিয়ে দেখে।
খেলার মাঠেও সাদিকের পরিচিতি ছিল বেশ। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন জানান, সাদিক একজন দক্ষ গোলরক্ষক ছিলেন এবং গোয়ালন্দে তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তার নম্র ও ভদ্র আচরণের জন্য এলাকাবাসী তাকে শ্রদ্ধা করতেন। সাদিকের অকাল প্রয়াণে শোকের রোল পড়েছে তার বাড়িতে।

