সেউতা অভিবাসন সংকট সমাধানে জরুরি বৈঠক ডাকল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

স্পেনের ছিটমহল সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসন সংকট সমাধানে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আগামী মঙ্গলবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মরক্কো সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর সেউতায় প্রবেশের ঘটনার পর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে। ইইউর বহিঃসীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই চিঠিতে ২২ জন স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মতো দেশের নেতারা রয়েছেন। বর্তমান ইইউ কাউন্সিলের সভাপতিত্বে থাকা আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনকে উদ্দেশ্য করে এই চিঠি লেখা হয়েছে।

চিঠিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধ অনুপ্রবেশের সুযোগ রয়েছে—এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই ধারণা আরও অভিবাসীকে উৎসাহিত করতে পারে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত অভিবাসন নীতির ওপর আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের কাছে পৃথক একটি চিঠিতে কয়েকটি ইউরোপীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে ‘গুরুতর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্পেন ও ইতালির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সমর্থন পাওয়া ইতালির এই পদক্ষেপকে স্পেন ‘স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছে। এছাড়া ফ্রান্স ও পর্তুগালও সীমান্তে তল্লাশি জোরদার করার কথা ভাবছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা জানিয়েছেন, সরকার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে এবং জলপথে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে একটি প্রতিবন্ধক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক এবং অধিকাংশ অভিবাসী সেউতা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে সীমান্ত পারাপারের এই আকস্মিক ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

রবিবার (২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০ জুলাই সেউতায় পৌঁছানো ব্যক্তিদের প্রায় সবাই ফিরে গেছেন। তবে সীমান্ত পারাপারের এই আকস্মিক বৃদ্ধির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে।