বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, ২০২০ সালের নির্বাচনী চক্রের সময় থেকে চীন ইতিহাসের বৃহত্তম নির্বাচনী তথ্য চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান ভোটিং ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি সহজেই প্রভাবিত বা হ্যাক করা সম্ভব।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, ভোটিং মেশিনগুলো নাজুক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই এই দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত। তবে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সেন্টার ফর ইলেকশন ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেকারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটিং মেশিনগুলো ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে এবং কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়। তিনি আরও জানান, প্রতিটি মেশিন ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করা হয় এবং কাগজের ব্যালট ব্যবহারের মাধ্যমে ফলাফল যাচাইয়ের সুযোগ থাকায় এগুলো কারচুপি করা অত্যন্ত কঠিন।
ডমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস নিয়ে ট্রাম্পের তোলা সন্দেহের বিষয়ে সিবিএস নিউজ উল্লেখ করেছে যে, ২০২০ সালে ২৮টি অঙ্গরাজ্যে এই মেশিন ব্যবহৃত হয়েছিল। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (CISA) ২০২২ সালের এক পর্যালোচনায় ডমিনিয়ন সিস্টেমে কিছু যান্ত্রিক দুর্বলতা চিহ্নিত করেছিল, তবে সেটি অত্যন্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাজ করার কথা বলা হয়েছিল।
ট্রাম্পের অন্যান্য দাবির মধ্যে ছিল ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক মৃত ব্যক্তি ও অ-নাগরিকদের নাম থাকা এবং মেইল-ইন ব্যালটকে সহজাতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আখ্যা দেওয়া। তিনি দাবি করেন যে, অসুস্থতা, সামরিক দায়িত্ব বা ভ্রমণের মতো জরুরি কারণ ছাড়া মেইল-ইন ব্যালট বন্ধ করা উচিত।
এদিকে, এবিসি নিউজ, এনবিসি নিউজ এবং সিএনএন জানিয়েছে যে তারা ট্রাম্পের এই বক্তব্য তাদের মূল সম্প্রচার চ্যানেলে সরাসরি প্রচার করবে না। তবে তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বক্তব্যটি সরাসরি প্রচার করা হয়েছে। ট্রাম্প এই মিডিয়াগুলোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাদের 'ফেক নিউজ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, এই মিডিয়াগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন ব্যবস্থা উন্মোচন করতে চায় না বলেই এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

