বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল ফ্রান্স, তবে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। দলের জয়ের একমাত্র গোলটি আসে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে, যার ফলে প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ হলো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। প্রথম মিনিটেই জুল কুন্দের বাড়ানো বল থেকে উসমান দেম্বেলে বক্সের ভেতরে ক্রস দিলেও প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করে দেয়। ১১ মিনিটে প্যারাগুয়ের এনসিসো একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উইলিয়াম সালিবা নিখুঁত ট্যাকলে বল দখল করেন। ৩১ মিনিটে দেম্বেলের ক্রসে এমবাপ্পে লাফিয়ে উঠেও বলের নাগাল পাননি। এরপর ৩৩ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে আদ্রিয়েন রাবিও শট নিলেও তা লক্ষ্যে ছিল না। ৩৬ মিনিটে আন্দ্রেস কুবাসের ফাউলকে কেন্দ্র করে এমবাপ্পের সাথে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরে রেফারি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রথমার্ধে ৭৮ শতাংশ বলের দখল থাকলেও গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় উভয় দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্সের আক্রমণ অব্যাহত থাকলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত। ৫৫ মিনিটে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক গিল দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন। এরপর ইনজুরির কারণে প্যারাগুয়ের ওমার আলদেরেতে ও হুলিও এনসিসো মাঠ ছাড়েন, আর ফ্রান্স ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় দেজিরে দুয়েকে নামায়। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৬৭ মিনিটে, যখন বক্সে দেজিরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। ৭০তম মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সপ্তম গোল, যা তাকে লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিয়ে এসেছে।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। ৯০ মিনিটে মৌরিসিওর দূরপাল্লার শট ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ান ঠেকিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে এমবাপ্পে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও ৯৬তম মিনিটে তার টানা দুটি শট দারুণভাবে সেভ করেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল। ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় শেষে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স, যেখানে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ মরক্কো।
