জ্বালানি মজুত বাড়াতে আরও ৫ লাখ টন তেল কিনছে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং শিল্প ও কৃষিখাতের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের আওতায় দেশে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বজায় রাখার পরিকল্পনায় মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বা গ্যাস অয়েল এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’। এই আমদানিতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জ্বালানি কিনছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যে বিপিসির এই প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান জানান, গত ১০ জুন দরপত্রের প্রস্তাব অনুমোদনের পর ১৭ জুন চিঠি পাওয়া গেছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নোয়া’ বা নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত চুক্তির পর জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরকার যে কোনো মূল্যে তা ৯০ দিনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকট এবং জাহাজ চলাচলের দীর্ঘ বিকল্প রুটের কারণে ট্রানজিট সময় ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম ও বিমা খরচের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থিতিশীল। গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম ব্যারেল প্রতি রেকর্ড ২৮৪.৯৫ ডলারে পৌঁছালেও বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার শিল্প ও কৃষিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বদ্ধপরিকর।

বিপিসির পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, এই আমদানির সম্ভাব্য ব্যয় ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার, যা ১৩ মে সোনালী ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও বর্তমান পরিস্থিতি জটিল। ২০২২ সালে ডিজেলের সর্বোচ্চ দর প্রতি ব্যারেল ১৭৮.৯১ ডলার থাকলেও, ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তা রেকর্ড ২৮৪.৯৫ ডলারে পৌঁছায়। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের গড় দর ৮৫.৯৯৭ ডলার থাকলেও এপ্রিলে তা ১১৮.৫০ শতাংশ বেড়ে ১৮৭.৯০৪ ডলার হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দর ও ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের সঙ্গে এই খরচ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। এই আমদানির অর্থ বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজনে ঋণ বা সরকারি সহায়তায় মেটানো হবে। জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে যে, ডলার সংকটের মধ্যেও এলসি খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকায় সরবরাহ চেইনে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।