হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জ্বালানি তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ফলে জাহাজ দুটিতে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো ট্যাংকার দুটিতে থাকা ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ট্যাংকার দুটি হরমুজ প্রণালির ‘দক্ষিণঘেঁষা অনিরাপদ অংশ’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া ‘মিথ্যা তথ্যে’ ভরসা না করতে এবং ‘বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করা নৌপথ এড়িয়ে চলতে’। নাবিকদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলেছে ইরান। বিবৃতিতে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যত দিন এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অপকর্ম চলতে থাকবে, তত দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল-গ্যাস, এমনকি এক প্যাকেট রাসায়নিক সারও বাইরে রপ্তানি করা হবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সোমবার রাতের ধারাবাহিক অভিযান শেষ হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোয় ইরানের হামলার সক্ষমতা মোকাবিলায় বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, ইরানের বিভিন্ন সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই কাতার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের কাছে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছে। এসব চিঠিতে উপসাগরীয় দেশটি তাদের ওপর ইরানের বারবার চালানো হামলাগুলোর বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছে। চিঠিতে ৭ জুলাই কাতারি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’-এর ওপর ইরানের হামলা এবং ১২ জুলাই কাতারের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দোহা জানিয়েছে, ১২ জুলাইয়ের হামলাটি তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিহত করেছে। কাতার অভিযোগ করেছে, এসব হামলা ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিধিমালা লঙ্ঘন’ করে চালানো হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার পাশাপাশি এসব হামলায় প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার তাদের রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে কাতার।

