সুস্মিতার মতো অনেক হবু মা পিরিয়ড বন্ধ হওয়া এবং শারীরিক অস্বস্তির পর প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ এলে দোটানায় পড়েন যে কখন ডাক্তার দেখাবেন। অনেকে মনে করেন পেট বোঝা যাওয়ার আগ পর্যন্ত বা গর্ভাবস্থার ৫-৬ মাস না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ আসার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নারীর দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়, কারণ তিনি নিজের পাশাপাশি গর্ভে বেড়ে ওঠা নতুন জীবনের সুস্থতা ও বিকাশের দায়িত্ব বহন করছেন। তাই মা হওয়ার প্রস্তুতি প্রেগনেন্সির একেবারে শুরু থেকেই নেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস বা ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ এই সময়ে ভ্রূণের মৌলিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ শুরু হয়। একইসঙ্গে এই সময়ে ইকটপিক প্রেগনেন্সি (জরায়ুর বাইরে ভ্রূণ স্থাপন), ব্লাইটেড ওভাম (ভ্রূণহীন গর্ভফল), মোলার প্রেগনেন্সি এবং মিসড এবরশনের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ বমি ভাব বা দুর্বলতার মতো হওয়ায় মা অনেক সময় নিজে এসব বুঝতে পারেন না। তাই এই সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
অনেকেই ভুলবশত মনে করেন যে গর্ভাবস্থার শেষদিকে আলট্রাসনোগ্রাম করানোই যথেষ্ট, কিন্তু গর্ভাবস্থার শুরুতেই আলট্রাসনোগ্রাম করা কেবল গুরুত্বপূর্ণই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তা জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করে। পিরিয়ড মিস হওয়ার দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে একজন গাইনোকোলজিস্ট বা নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও আল্ট্রাসাউন্ড বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং আর্লি প্রেগনেন্সি আলট্রাসনোগ্রাম করা জরুরি।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভধারণের সত্যতা, ভ্রূণ জরায়ুর মধ্যে সঠিকভাবে সংস্থাপিত হয়েছে কিনা, ভ্রূণের হার্টবিট এসেছে কিনা এবং ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ বা এক্সপেকটেড ডিউ ডেট জানা সম্ভব হয়। এই তথ্যগুলো পরবর্তী যত্ন ও চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, ইকটপিক প্রেগনেন্সি দ্রুত শনাক্ত করা গেলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার মাধ্যমে মায়ের জীবন বাঁচানো সম্ভব। একইভাবে ব্লাইটেড ওভাম বা মোলার প্রেগনেন্সি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলে ভবিষ্যতের বড় জটিলতা এড়ানো যায়।
সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম খাদ্যগ্রহণ, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকা অত্যাবশ্যক। তাই পিরিয়ড মিস হওয়ার দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় আলট্রাসনোগ্রাম করান। এতে নিজের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বিকাশ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
