ভারতে ‘করপোরেট জিহাদ’ আতঙ্ক: আইটি খাতে মুসলিম কর্মীরা তীব্র নজরদারিতে

ভারতে ‘করপোরেট জিহাদ’ আতঙ্ক: আইটি খাতে মুসলিম কর্মীরা তীব্র নজরদারিতে

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে নতুন করে ‘করপোরেট জিহাদ’ বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। পুনে ও নাসিকের মতো প্রধান আইটি হাবগুলোতে মুসলিম কর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় হয়রানি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ওঠার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আইটি সেক্টরে কর্মরত মুসলিম পেশাজীবীরা তীব্র সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির মুখে পড়েছেন।

সম্প্রতি পুনেভিত্তিক একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক নারী কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, তার এক মুসলিম সহকর্মী তাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। ওই নারীর দাবি, প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। বর্তমানে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী নারী তার চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন এবং দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর একটি শাখাতেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় চাপ প্রয়োগ ও অসদাচরণের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং বিশ্লেষকরা এই ধরণের ঘটনাকে ‘করপোরেট জিহাদ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি কোনো আইনি পরিভাষা নয়, বরং হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক তকমা। কোনো ঘটনা আদালত বা সুষ্ঠু তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগেই এভাবে ঢালাও নামকরণ করায় কর্মক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, আইটি খাতের মতো একটি বৈশ্বিক পেশাদার জায়গায় মুসলিম কর্মীদের নাম প্রকাশ করা বা অনলাইনে তাদের ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে প্রচার করার ফলে সাধারণ মুসলিম চাকুরিজীবীরা বৈষম্য, হয়রানি এবং ‘ডক্সিং’ (ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে হেনস্তা)-এর শিকার হচ্ছেন। সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে যেন কোনো নিরীহ কর্মী তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সন্দেহের চোখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত