ইরানের সামরিক ও কৌশলগত বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। টানা ষষ্ঠ রাতের এই অভিযানের ফলে দেশটির বিভিন্ন শহরে অন্তত আটজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া হামলায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, টানা ষষ্ঠ রাতের এই হামলায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো এবং পাঁচটি সেতু লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বান্দার খামিরের কাছে দুটি সেতুতে পৃথক হামলায় সাতজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে চারটি বিস্ফোরণ এবং হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া বান্দার আব্বাসের পশ্চিমে তিনটি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বান্দার আব্বাস-শিরাজ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি সেতুর মধ্যে গারিভেহ ও কাহুরেস্তান সেতু অন্যতম। এসব সেতু ইরানের সামরিক চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ রসদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বান্দার আব্বাসে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

