গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গত সপ্তাহে হামাসের সঙ্গে একটি নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, সুনির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপে এই নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
চুক্তির নথিতে উল্লেখ ছিল যে, গাজায় ইসরাইলি হামলার অবসান ঘটবে এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া গত বছর মিসরের শারম আল-শেখে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে গাজায় অবাধে মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং চিকিৎসার জন্য মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে ইসরাইল এই চুক্তির শর্তের বিরোধিতা করেছে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাহিনী গাজার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইয়েলো লাইন’-এর বাইরে সরে যাবে না। সোমবার বোর্ড অব পিসের পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ম্লাদেনভ নিশ্চিত করেন যে, হালকা অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং সুড়ঙ্গসহ সব ধরনের নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলেই কেবল ইসরাইলি বাহিনী ইয়েলো লাইনের বাইরে সরবে।
অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, এই চুক্তির বাস্তবায়ন পুরোপুরি ইসরাইলের প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর নির্ভরশীল। গাজা পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং হামাসের অবস্থানের মধ্যে এই অমিল এবং সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো স্পষ্ট রয়ে গেছে।

