রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াতে ইসলামীর এক রুকনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ‘নৈতিক স্খলনের’ দায়ে তার বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রহমান মিলন। উপজেলা জামায়াতের সভায় ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওমর ফারুককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমির আব্দুর রহমান মিলন জানান, অভিযোগ ওঠার পর দলীয়ভাবে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত ওমর ফারুকের বয়স ৩৫ বছর। তিনি উপজেলার পাকারমাথা গ্রামের বাসিন্দা এবং বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন ছিলেন। পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক ওমর ফারুক একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন। তার ভাই আবু বকর একই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ওমর ফারুক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই প্রতিদিনের মতো ওই শিশুকন্যা প্রাইভেট পড়তে যায়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ওমর ফারুক কৌশলে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করে শিশুটিকে একা রেখে যৌন হয়রানি করেন। বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে তার মায়ের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওমর ফারুককে তার বাড়ি থেকে আটক করে। রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পবা থানায় মামলা করেন। পরদিন শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

