ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির শারীরিক সুস্থতা নিয়ে চলমান সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি খামেনির সঙ্গে টানা সাত ঘণ্টার একটি দীর্ঘ বৈঠকের পর পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন যে, সর্বোচ্চ নেতা শারীরিকভাবে ‘পুরোপুরি সুস্থ’ আছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, বৈঠকে দেশের বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মসংস্থান, আবাসন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট নানা জটিলতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, বৈঠকে তিনি নিজের বিভিন্ন উদ্বেগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন এবং খামেনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখাকেই বৈঠকে সর্বোচ্চ নেতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এরপর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যদিও এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং জুনে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে, কিন্তু গত মাসে সেই সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় পরিস্থিতি পুনরায় সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এমন অস্থির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে খামেনির সুস্থতা নিয়ে প্রেসিডেন্টের এই প্রকাশ্য বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ২০আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ২৯

