কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ১৪, আহত ২৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে চালানো এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কর্তৃপক্ষ জানায়, মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এ হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের অন্তত সাতটি স্থানে আঘাত হানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। হামলার পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে রাজধানীজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শহরের কেন্দ্রের কাছে একটি গুদাম ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মেয়র ক্লিচকো বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, এ হামলায় আরও কয়েকটি গুদাম ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়র আরও জানান, হামলা প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট সক্রিয় ছিল।

এ হামলার কয়েকদিন আগেই ইউক্রেন ও রাশিয়ায় পৃথক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হন। এ ঘটনা প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতার ঘাটতি রাশিয়াকে আরও এমন প্রাণঘাতী হামলা চালাতে উৎসাহিত করছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি ইউক্রেনে দেশীয়ভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সমর্থন চেয়েছেন। এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত