১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠের ছোট্ট শহর বন্দিতে জন্ম নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। এমবাপ্পের পরিবার খেলাধুলার আবহে বেড়ে ওঠা, যেখানে বাবা উইলফ্রিড এমবাপ্পে ছিলেন ফুটবল কোচ এবং মা ফাইজা লামারি একজন হ্যান্ডবল খেলোয়াড়।
বাবার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ক্লাব ‘এএস বন্দি’র মাধ্যমেই ফুটবলে হাতেখড়ি হয় এমবাপ্পের। বয়সে বড়দের বিপক্ষে খেলার সময় তাঁর গতি ও আত্মবিশ্বাস শুরু থেকেই সবার নজর কাড়তে সক্ষম হয়। কঠোর শৃঙ্খলা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন, যা তিনি পরিবারের কাছ থেকেই শিখেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ফ্রান্সের বিখ্যাত ফুটবল একাডেমি ‘ক্লেয়ারফঁতেন’-এ ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার আরও দৃঢ় হয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি এএস মোনাকো ফুটবল ক্লাবের যুবদলে যোগ দেন। ২০১৫ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মোনাকোর মূল দলে অভিষেক ঘটে তাঁর, যেখানে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে থিয়েরি অঁরির দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে মাত্র ১৮ বছর বয়সে মোনাকোকে ফরাসি লিগ শিরোপা জেতাতে এমবাপ্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাঁকে ইউরোপজুড়ে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসে। এরপর ২০১৭ সালে রেকর্ড অঙ্কের চুক্তিতে তিনি প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দেন এবং ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেন এমবাপ্পে। বিশেষ করে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন। বন্দির ছোট্ট ক্লাব থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই পথচলা প্রমাণ করে যে, প্রতিভা দরজা খুলে দিলেও ইতিহাস গড়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই।
২০১৬–১৭ মৌসুমে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই মোনাকোকে ফরাসি লিগ শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইউরোপজুড়ে আলোচনায় আসেন।ছবি: ইনস্টাগ্রাম/হিস্টোরিয়া এম ইমাজেনস
