বিশ্বকাপ শেষে ক্লাবে ফিরে প্রথমবার শুরুর একাদশে নেমেই নিজের চেনা ছন্দে জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। তার জোড়া গোলে ভর করে নতুন মৌসুমের লিগস কাপের প্রথম ম্যাচে ইন্টার মায়ামি ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে আতলেতিকো দে সান লুইসকে। পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে দারুণ লড়াই করে জয় তুলে নেয় মায়ামি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই হেডের মাধ্যমে গোল করে সফরকারী সান লুইসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন দাভিদ রদ্রিগেস। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। নোয়া অ্যালেনের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। এটি ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল পরবর্তী বিরতির পর ক্লাবে ফেরা মেসির দ্বিতীয় ম্যাচ, এবং শুরুর একাদশে প্রথমবার নেমেই তিনি গোলের দেখা পেলেন।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে নোয়া অ্যালেনের পাস থেকে তেলাস্কো সেগোভিয়া গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন, যাতে সহায়তা ছিল মেসির। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। অ্যালেনের পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এই গোলের মাধ্যমে তিনি লিগস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন দখল করেন। ২০২৩ সালে প্রতিযোগিতার নতুন সংস্করণ চালুর পর তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেনি বুয়াঙ্গার চেয়ে একটি বেশি। এই প্রতিযোগিতায় এটি ছিল মেসির ১২ ম্যাচে পঞ্চম জোড়া গোল। এদিন নোয়া অ্যালেনও ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, তিনি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে তিনটি গোলে সহায়তা করেছেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে কর্নার থেকে হেডে মিকায়েল দলের চতুর্থ গোলটি করলে ব্যবধান ৪-১ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে রাফা লোরেন্তে দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কমালেও ভারী বৃষ্টির কারণে খেলা কিছু সময় বন্ধ ছিল। পরে খেলা শুরু হলেও সান লুইস আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মায়ামির জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ৮৩তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মাতেও সিলভেত্তির বাম হাতে চোট পাওয়া।
উল্লেখ্য, লুইস সুয়ারেজ আগের মৌসুমের লিগস কাপের ফাইনালে এক স্টাফ সদস্যের দিকে থুতু ছিটানোর ঘটনায় ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ায় এই ম্যাচে খেলতে পারেননি এবং পুরো আসরেই তাকে পাচ্ছে না মায়ামি। বিশ্বকাপের আগে মেসির নেতৃত্বে পূর্বাঞ্চলীয় শীর্ষ সারিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল ইন্টার মায়ামি। লিগস কাপে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে শনিবার মায়ামি মুখোমুখি হবে মনতেরেইয়ের।

