লর্ডস টেস্ট: ১৭ উইকেটের দিনে ইংল্যান্ডের দাপট

লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উইকেট পতনের সংখ্যা প্রথম দিনের চেয়েও বেশি ছিল, যা পেসারদের দাপুটে পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত দেয়। শুক্রবার দুই দলের মোট ১৭টি উইকেট পড়েছে এবং দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ২৫৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ৩৬ রান তুলে। ম্যাচ জিততে সফরকারীদের আরও ২১৮ রান প্রয়োজন, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের দরকার ৭টি উইকেট।

৬ উইকেটে ৬১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে তারা মাত্র ১১৩ রানেই অলআউট হয়ে যায়। কিউইদের পক্ষে নবম উইকেটে নেমে কাইল জেমিসন ২৯ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি ছক্কা ও দুটি চার। উল্লেখ্য, প্রথম দিনেও তিনি ৫ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সফলতম বোলার ছিলেন। ইংল্যান্ডের পেসার অলি রবিনসন ৩৯ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট শিকার করেন। ৩২ বছর বয়সী এই পেসার টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থবারের মতো এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন।

প্রথম ইনিংসে ১৪০ রান করে ২৭ রানের মূল্যবান লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। অভিষিক্ত এমিলিও গের দুর্দান্ত ফিফটির সুবাদে একপর্যায়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১২৬ রান। কিন্তু এরপরই নাটকীয় ধস নামে। মাত্র ১১ বল আর ১ রানের ব্যবধানে ৪টি উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১২৭ রান! এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উইকেটরক্ষক জেমি স্মিথ এবং লেজের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা দুইশ রানের গণ্ডি পেরিয়ে নিউজিল্যান্ডকে আড়াইশ ছাড়ানো একটি লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দারুণ বোলিং করে ৭০ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট তুলে নেন নাথান স্মিথ। এই পেসার পরপর দুটি টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এর আগে তিনি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন।

ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে এমিলিও গে এবং ডাকেট ৫২ রানের একটি উদ্বোধনী জুটি গড়েন। উইল ও’রোক ৪৬ বলে ৩৩ রান করা ডাকেটকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গে এবং জ্যাকব বেথেল আরও ৪৭ রান যোগ করেন। তবে বেথেল ৩৫ বলে ১৪ রান করে থিতু হতে পারেননি। নাথান স্মিথের এক ওভারে তিনটি চার মেরে ৮৪ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন গে। ২০০৪ সালে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ১১২ রানের পর, ঘরের মাঠে টেস্ট অভিষেকে পঞ্চাশ রান করা প্রথম ইংলিশ ওপেনার হলেন তিনি।

নাথান স্মিথের বলে ৯৫ বলে ৫৭ রান করা গের বিদায়ের মধ্য দিয়েই ইংল্যান্ডের সেই ছোট ধসের সূত্রপাত হয়। পরের ওভারেই উইল ও’রোক শূন্য রানে হ্যারি ব্রুককে এলবিডব্লিউ করেন। স্মিথের পরবর্তী ওভারে জো রুট এলবিডব্লিউ হন এবং এরপর বেন স্টোকস শূন্য রানে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এই বিপর্যয়ের পর অ্যাটকিনসনকে সাথে নিয়ে জেমি স্মিথ ইনিংসের সেরা ৫৭ রানের জুটি গড়েন। কাইল জেমিসন ফিরতি ক্যাচে অ্যাটকিনসনকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন। ৫২ বলে ৩৯ রান করা জেমি স্মিথকে বোল্ড করে থামান নাথান স্মিথ। এরপর জশ টংকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ২৭ বছর বয়সী এই পেসার ৩০ বলে ২৯ রান করা রবিনসনকে আউট করে ইংল্যান্ডের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান।

২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। প্রথম ওভারেই অ্যাটকিনসনের বলে শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন কিউই অধিনায়ক ল্যাথাম। অভিজ্ঞ কেন উইলিয়ামসনও শুরুর এই ধাক্কা সামলাতে পারেননি; তিনি ৩৬ বলে ১৮ রান করে টংয়ের বলে এলবিডব্লিউ হন।