বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়ে নাটকীয় এক সূচনা দেখল আর্জেন্টিনা। খেলার শুরুতেই লিওনেল মেসিকে যেন ভিন্ন দুই রূপে দেখা গেল—প্রথমে হতাশার ছায়া, এরপরই যেন প্রতিশোধের এক দুর্দান্ত জবাব।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো বল জালে জড়ান মেসি। সতীর্থদের নিয়ে গোল উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন তিনি। তবে সহকারি রেফারির অফসাইডের পতাকা উঠতেই সব আনন্দ থেমে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, সামান্য ব্যবধানে অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল করা হয়।
এরপরও নাটকের রেশ কাটেনি। অষ্টম মিনিটে আলজেরিয়াও বল জালে পাঠায়। কিন্তু ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর সেই গোলটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই দলের দুটি গোল বাতিল হওয়ায় ম্যাচে এক ভিন্ন উত্তেজনা তৈরি হয়।
এই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে খেলায় ছন্দ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের অসাধারণ নিয়ন্ত্রণে খেলার গতি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসে তারা।
অবশেষে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে আসে মেসির সেই কাঙ্ক্ষিত জবাব। ডি পলের দ্রুত নেওয়া ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে মাঝমাঠ পেরিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান মেসি। এরপর দূরপাল্লার এক শক্তিশালী শটে তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান বলটি ছুঁয়ে ফেললেও তা আটকাতে পারেননি।
এই গোলের সুবাদে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কয়েক মিনিট আগে যে হতাশা মেসিকে ঘিরে ধরেছিল, তা যেন মুহূর্তেই তার পায়ের জাদুতে উধাও হয়ে যায়।
শুরুর দিকের ধাক্কা সামলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। আর লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন—একবার তাকে থামানো গেলেও, বেশিক্ষণ আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব।

