২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপসেরা হওয়া যেন এক বাড়তি শাস্তি: নাগলসমান

ফুটবল বিশ্বকাপে সাধারণত সব দলেরই লক্ষ্য থাকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া, যাতে নকআউট পর্বে অন্য গ্রুপের শীর্ষ কোনো শক্তিশালী দলকে এড়িয়ে চলা যায়। বিষয়টি সুবিধাজনক মনে হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের বর্তমান নকআউট সূচি নিয়ে বেশ বিরক্ত জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান। তাঁর মতে, বর্তমান ফরম্যাটে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা যেন কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়তি ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং গ্রুপসেরা হওয়ার পর দলগুলো কিছুটা ‘শাস্তি’ পাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেলেও ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা অবশ্য গত ১৯ জুন আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ বত্রিশে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছিল। তবে এখন পর্যন্ত রাউন্ড অব থার্টি টুতে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি।

নতুন এই বিশ্বকাপ ফরম্যাটে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ৮টি দলও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে, যার ফলে অনেক গ্রুপের চূড়ান্ত অবস্থান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত থাকছে। জার্মানির ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। গ্রুপসেরা নিশ্চিত হয়ে গেলেও শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ ঠিক করতে গ্রুপের বাকি সব ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

সূচি অনুযায়ী, ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জার্মানির ম্যাচটি ২৯ জুন রাত আড়াইটায় হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ এখনো অজানা। ‘এ’, ‘সি’, ‘ডি’ বা ‘এফ’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানধারীদের মধ্য থেকে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে। অথচ গ্রুপ পর্বের সর্বশেষ ম্যাচ শুরু হবে ২৮ জুন সকাল আটটায়। ফলে রাউন্ড অব থার্টি টুর প্রতিপক্ষ জানতে জার্মানিকে ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

জার্মান কোচের মতে, প্রতিপক্ষ নির্ধারণের এই দীর্ঘসূত্রতা কোচিং স্টাফদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। ইকুয়েডর ম্যাচের পর নাগলসমান বলেন, আমার মনে হয়, গ্রুপের শীর্ষে থাকা দলগুলো কিছুটা শাস্তি পাচ্ছে। আমরা সম্ভাব্য প্রতিপক্ষগুলো কোচিং স্টাফদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি। আমি নিজেও তিন-চারটি ম্যাচ দেখেছি, বিশ্লেষক দলও একই কাজ করেছে। কিন্তু শনিবার রাত কাটানোর এর চেয়ে ভালো উপায় নিশ্চয়ই আছে। সামনে আমাদের নির্ঘুম রাত অপেক্ষা করছে।

অবশ্য সূচির এই জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ নাগলসমান। তিনি জানিয়েছেন, সময় কম থাকলেও প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কাজের বড় একটা অংশ আগেই শেষ করে ফেলতে, যেন শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে ম্যাচ পরিকল্পনা করতে না হয়। আমরা পরিস্থিতি সামলে নেব। আমাদের স্টাফদের বেশির ভাগই এখনো তরুণ। দরকার হলে আমরা সারা রাত জেগে কাজ করব।

জার্মান কোচের এই মন্তব্য নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাট নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। আগে ৩২ দলের বিশ্বকাপে নকআউটের সমীকরণ সহজ থাকলেও ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর উপস্থিতির কারণে অনেক সমীকরণ শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ঝুলে থাকে। ফলে জার্মানির মতো ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো, ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ড ও ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনো তাদের প্রতিপক্ষের নাম জানতে পারেনি।