নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বন্দউষান গ্রামে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নেতাই নদীর পাড় ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাঙন ছোট থাকলেও পানির তীব্র স্রোতে তা দ্রুত বড় আকার ধারণ করে। রোববার সকাল থেকে উজানের এই আকস্মিক ঢলে নদীর প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। বন্দউষান হাজী বাড়ি জামে মসজিদের সামনের অংশ ভেঙে যাওয়ায় এই পথ দিয়েই আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ২০ একরের বেশি জমির আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। এছাড়া স্থানীয় অনেক পুকুর ও মাছের ঘের ভেসে গেছে। ঢলের পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত প্রায় দুই দিন ধরে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রাম বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দাতেও পাহাড়ি গণেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে সড়ক উপচে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আংশিক অংশ ভেঙে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পাড়ের পেছনের অংশ নিচু থাকায় এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। পানি কমলে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন মেরামত করা হবে যাতে নদীর পানি নতুন করে আর প্রবাহিত না হয়।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বলেন, আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার থেকে বন্দউষান হয়ে পাঁচ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের যেসব বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অনুদান দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

