জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা এখন থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই পরিবর্তনের ফলে পাবলিক পরীক্ষার শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে স্থানীয় বা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই খুব সহজে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ১২তম সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্ব শেষে ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটারদের নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও ভোগান্তিহীন করার লক্ষ্যে এই নতুন নিয়ম প্রবর্তন করা হয়েছে। এর আগে এ ধরনের আবেদনগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা কেন্দ্রিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা হতো, যা এখন মাঠপর্যায়ে সরাসরি অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এনআইডি সম্পর্কিত অন্যান্য নতুন সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুবিধা বা মাইগ্রেশন এখন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে, ফলে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করে নাগরিকরা ঘরে বসেই এই সেবা পাবেন। আইন অনুযায়ী এনআইডি কার্ডের মেয়াদ ১৫ বছর কার্যকর থাকে, তাই নবায়নের সুবিধার্থে আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফরমে পারিবারিক পরিচিতি বা ফ্যামিলি ট্রি জমা দিতে হবে, যা তথ্য যাচাইয়ে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনলাইন বায়োমেট্রিক সুবিধা চালু করা হয়েছে; স্থানীয় তদন্তে তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে কেন্দ্র থেকেই দ্রুত কার্ড অনুমোদন দেওয়া হবে, যা প্রবাসীদের আবেদনের ধাপ কমিয়ে আনবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা, এই নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে দেশজুড়ে নাগরিক ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং এনআইডি সংক্রান্ত জটিলতাগুলো দূর হবে।

