৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ, মাদকাসক্ত স্বামীর ছয় মাসের কারাদণ্ড

৯৯৯-এর সহায়তায় উদ্ধার

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পশ্চিম রাজদিয়া গ্রামে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে ঘরে বন্দি এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী লাবনী আক্তার (৩০) ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অভিযুক্ত স্বামীর নাম আল-আমিন (৩২), যিনি ওই গ্রামের আলী আকবরের ছেলে। এই দম্পতির সাত বছর বয়সী এক মেয়ে ও চার বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল-আমিন মাদক সেবনের পর প্রায়ই তাঁর স্ত্রী লাবনীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার আগের রাতেও তিনি লাবনীকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও ছিনিয়ে নেন। বুধবার সকালে লাবনী পাশের বাড়ির এক নারীর মুঠোফোন ব্যবহার করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য প্রার্থনা করেন। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাবনী আক্তারকে উদ্ধার করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে আল-আমিনের কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজাও উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড

উদ্ধারের পর বিষয়টি সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেনকে অবহিত করা হয়। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত আল-আমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ের পর তাঁকে পুলিশ হেফাজতে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

বিচার ও আইনি পরামর্শ

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দণ্ডিত ব্যক্তি মাদক সেবন করে শুধু তাঁর স্ত্রীই নয়, নিজের ছোট সন্তানদের ওপরও নির্যাতন চালাতেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

সিনথিয়া হোসেন আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের এই অপরাধের জন্য আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ারের বাইরে। তাই ভুক্তভোগীকে এই বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে পুলিশকে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এসআই সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূর শরীরে মারধরের আলামত পাওয়া গেছে। সময়মতো উদ্ধার করা না গেলে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারত। বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই নারী ও তাঁর সন্তানরা নিজ বাড়িতে নিরাপদে রয়েছেন।