১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার এক রাতের ভয়াবহ হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে শুরু হওয়া এই আক্রমণ কয়েক ঘণ্টা ধরে অব্যাহত ছিল এবং পুরো রাজধানীজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, রাশিয়া ওই রাতে ইউক্রেনজুড়ে মোট ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ২৫টি ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইউক্রেনীয় বাহিনী ১০৮টি ড্রোন এবং ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত বা অকার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী কিয়েভ।
ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় কিয়েভের পাঁচটি জেলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্প স্থাপনা, একটি ডরমিটরি এবং বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া শেজকো জানান, তিনি তার স্বামী ও সাত সন্তানের সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্টের করিডোরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সতর্ক সংকেত শুনে তারা করিডোরে যাওয়ার পরপরই একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ শুরু হয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাদের ওপর প্রায় নিয়মিত বিরতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা সভিয়াটোশিনস্কি জেলার একটি জ্বলন্ত বাড়ি থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। শেভচেঙ্কিভস্কি জেলায়ও একটি তিনতলা ভবন থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও সলোমিয়ানস্কি, ডেসনিয়ানস্কি এবং দিনিপ্রো জেলায় অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তাদের এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইউক্রেনীয় সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ড্রোন ও ‘নেপচুন’ গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা এবং ড্রোন ও রোবোটিক সিস্টেম সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি পোস্টাল টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে কিয়েভে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইলের ঘাটতি থাকায় এই হামলাগুলো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে রবিবারের হামলায় ১৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, ইউক্রেন হয়তো তাদের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কিছুটা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে মাসের শুরুতে একটি বড় হামলায় ইউক্রেন কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই আটকাতে পারেনি।
এদিকে, ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন এবং সময়সীমা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।

