তরুণ ও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদনচর্চার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সেমিনারের আলোচকরা। রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যালয়ে ‘তরুণ সাংবাদিকদের নিয়মিত সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদনচর্চার পরিবেশ গঠন’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবর, অপসংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় তরুণ সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সেমিনারে ইতিবাচক ও মানবিক সাংবাদিকতার চর্চা, ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ওপর জোর দেওয়া এবং দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। জাহিদুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের সত্য, সংগ্রাম ও ত্যাগের ঘটনাগুলো নাটক ও চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের পালকি ও বায়োস্কোপের মতো দেশীয় লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সেমিনারে সম্মানিত আলোচক হিসেবে অংশ নেন। তিনি বলেন, একটি জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও মূল্যবোধ তার সংস্কৃতির মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। এ সময় তিনি ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে দেশের জন্য গৌরবের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
একাধিক উৎস থেকে শতভাগ তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা।ক্লিকবেট ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম সম্পূর্ণ পরিহার করা।কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ আইনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা।দেশীয় শিল্প, সাহিত্য ও লোক-ঐতিহ্যকে সংবাদে অগ্রাধিকার দেওয়া।ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন সেলিব্রিটি রিপোর্টিং থেকে বিরত থাকা।ভুয়া খবর ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রম জোরদার করা।ইতিবাচক, শিক্ষামূলক ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া।ডিজিটাল নৈতিকতা, সাইবার আইন ও আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে সাংবাদিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

