জুলাই শহীদদের রক্তঋণ পরিশোধে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার শপথ জামায়াত আমিরের

ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছাবাণীতে তিনি এই দিনটিকে জাতীয় ইতিহাসের একটি গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ এবং নাগরিক সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই দিনটিতে একটি অভিন্ন দাবিতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে উন্মত্ত শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মুক্তিকামী মানুষ জালিম শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু, গুলি ও বোমা উপেক্ষা করে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে অটল ছিল। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা তার দলের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের একনায়কতন্ত্র ও জুলুম-নির্যাতনের অবসান ঘটে এবং দেশের মানুষ স্বৈরাচার ও তাদের বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের আধিপত্য থেকে মুক্তি লাভ করে। তিনি বলেন, এ সবই জুলাই গণআন্দোলনের গৌরবময় ফসল।

এই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির জানান, পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি-র একাংশের গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েক হাজার মানুষ হাত, পা বা চোখ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী ও শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, ইনসাফভিত্তিক এবং সুশাসন ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জাতিকে এক মহৎ ঋণে আবদ্ধ করে গেছেন। ডা. শফিকুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, একটি মহলের কারণে সেই প্রত্যাশা আজও পূর্ণ হয়নি এবং জাতিকে এখনো লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, শহীদদের এই রক্তঋণ যে কোনো মূল্যে পরিশোধ করতে হবে এবং তাদের রক্ত যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায় সে শপথ নিতে হবে। একটি বৈষম্যহীন, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠনের মাধ্যমেই কেবল এই ঋণ আংশিক পরিশোধ করা সম্ভব। পরিশেষে তিনি অতীতের ভেদাভেদ ভুলে সুখী-সমৃদ্ধ, মানবিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া করেন।