ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং স্থানীয় নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার এই প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মাঠের আধুনিকায়নের জন্য মাটি ভরাট করে ভূমি উঁচু করা, জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি এবং মাঠের চারপাশে স্লোপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মাঠের চারপাশ ঘিরে দৃষ্টিনন্দন সীমানাপ্রাচীর ও নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণের বিষয়টিও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
দূরদূরান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লির সুবিধার কথা মাথায় রেখে ঈদগাহসংলগ্ন পুকুরের তিন পাশে ঘাটলা নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে সংলগ্ন মসজিদটিকে তিনতলা ভবনে উন্নীত করা এবং আধুনিক অজুখানা ও ওয়াশরুম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসান মারুফ জানিয়েছেন, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই সীমানাপ্রাচীর, মাঠ ভরাট এবং পুকুরের ঘাটলা নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কিশোরগঞ্জ সফরকে সামনে রেখে ঈদগাহ মাঠকে সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দনভাবে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এলাকাবাসী এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে মাঠের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য একটি আধুনিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

