ছায়াবৃক্ষের নির্বাক আর্তনাদ: অস্তিত্ব রক্ষার এক করুণ আখ্যান

কোনো এক অশুভ ক্ষণে আমরা থমকে যাই, আর তখনই ধুলোওড়া বিকেল হাহাকার ছড়িয়ে দেয়। এটি যেন নিথর, ঝরে পড়া বকুলের মতো। সর্বস্ব হারানো কোনো মৃতপ্রায় বৃক্ষের মতো তার অবস্থা। আপনি কি কখনো অনুভব করেছেন সেই বীভৎস লড়াই? একেবারে নিঃস্ব হওয়ার চরম মুহূর্তে অক্ষম ডালপালাগুলো যেন আঁকড়ে রাখে নিজের ক্ষীণ ছায়াকে। যে দিন হালকা বাতাসে শেষ কুঁড়িটিও ঝরে পড়ে, সেদিন সে আর নিজের থাকে না, বরং বিলীন হয়ে যায় অনন্তের সমর্পণে।

তবুও সব হারিয়ে সে ভয়ানকভাবে জেগে থাকে, যেন এক অসহ্য জাগরণের রূপান্তর। পৃথিবীর চোখে যা হারানো লাশ, তা আসলে এক অদ্ভুত নির্বাক প্রাণ, যে নদীর মতোই বয়ে চলে নিজের গোপন আর্তনাদে। সে তখন আয়নার কাচে নয়, বরং হাওয়ার ধারালো স্পর্শেই নিজেকে উপলব্ধি করে; হাসে, কাঁদে এবং নিভৃতে কথা বলে। ভেঙে পড়ার দহন তার কাছে তখন তুচ্ছ মনে হয়। মানুষও যেন এভাবেই মরে মরে বেঁচে থাকার অভিনয়ে মেতে থাকে। এটি এক মুমূর্ষু প্রদীপের নিভু নিভু শিখার মতো, যার বেঁচে থাকায় নেই কোনো দাম্ভিকতা, নেই কোনো দাবি, শুধু অবশিষ্ট থাকে এক অমানবিক, অতল গহ্বরে বয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত