বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে পরিস্থিতি আমার কাছে একেবারেই পরিষ্কার—আর্জেন্টিনার চেয়ে স্পেন বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী দল। কেবল ভালো খেলাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে তারা যেভাবে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে, তাতে শিরোপা জেতার জন্য তারাই সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে স্পেনের খেলা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা যেভাবে পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে, তা ছিল অসাধারণ। পুরো টুর্নামেন্টে তারা হজম করেছে মাত্র একটি গোল। একদিকে যেমন তাদের রক্ষণভাগ অত্যন্ত দৃঢ়, অন্যদিকে আক্রমণেও তারা সমান আত্মবিশ্বাসী। একটি চ্যাম্পিয়ন দলের সব গুণই তাদের মধ্যে বিদ্যমান।
ফাইনালে ওঠার জন্য আর্জেন্টিনাকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হয়। তবে আমার দৃষ্টিতে তাদের এবারের পথচলা খুব একটা দাপুটে ছিল না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তারা বেশ ভুগেছে, আবার মিসরের বিপক্ষেও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে দুটি গোল করে জয় পেলেও, আমার বিশ্বাস আমরা নিজেরাই তাদের হারানোর সুযোগ নষ্ট করেছি। ম্যাচটি আমাদের হাত থেকেই ফসকে গেছে, আর্জেন্টিনা আমাদের হারায়নি।
ইংল্যান্ডের হারের পেছনে বড় কারণ ছিল আমাদের মানসিকতা। ম্যাচের এক ঘণ্টা পর্যন্ত আমরা দাপটের সাথে খেলেছি এবং ১-০ গোলে এগিয়েও ছিলাম। সেই সময় স্পেনের খেলা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল—কীভাবে এগিয়ে থাকা অবস্থায় বলের দখল ধরে রাখতে হয়, সাহস নিয়ে খেলতে হয় এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হয়।
মেক্সিকোর বিপক্ষেও আমরা একই ভুল করেছিলাম, যেখানে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছি। বড় শিরোপা জিততে হলে শুধু রক্ষণ করে জয় পাওয়া সম্ভব নয়। ইংল্যান্ডের মূল সমস্যা খেলোয়াড়দের দক্ষতায় নয়, বরং মানসিকতায়। এগিয়ে গেলেই আমাদের মধ্যে হারার ভয় কাজ করে, যা শেষ পর্যন্ত ভুল সিদ্ধান্তের জন্ম দেয় এবং বড় ম্যাচে তার চড়া মূল্য দিতে হয়।

